গানকে হারাম বলা দলটাও গানে গানে ভোট খুঁজছে: কুদ্দুস বয়াতি
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সমগ্র বাংলাদেশ এখন এক উৎসবমুখর ও রাজনৈতিক উত্তেজনায় মুখর হয়ে উঠেছে
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সমগ্র বাংলাদেশ এখন এক উৎসবমুখর ও রাজনৈতিক উত্তেজনায় মুখর হয়ে উঠেছে, যেখানে সাধারণ কৃষক থেকে শুরু করে কবি-সাহিত্যিক—সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের প্রধান আলোচনার বিষয়বস্তুই এখন ভোটের মাঠ; আর এই উন্মাদনায় নিজের চিরচেনা ঢঙে শামিল হয়েছেন দেশের কিংবদন্তি লোকসংগীত শিল্পী ও বাউল সম্রাট আবদুল কুদ্দুস বয়াতি। সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) রাতে নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে একটি সংক্ষিপ্ত অথচ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ পোস্টের মাধ্যমে তিনি চলমান নির্বাচনী সংস্কৃতির এক বৈপরীত্য নিয়ে কটাক্ষ করেছেন; যেখানে তিনি কোনো সুনির্দিষ্ট রাজনৈতিক দল নাম উল্লেখ না করেই লিখেছেন যে, যারা একসময় গানকে ধর্মীয়ভাবে 'হারাম' বা নিষিদ্ধ বলে প্রচার করত, আজ ভোটের প্রয়োজনে তারাই আবার গানের সুরে সুরে মানুষের দ্বারে দ্বারে ভোট প্রার্থনা করছে। তাঁর এই সূক্ষ্ম রসিকতা ও সাহসী মন্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে যায় এবং কমেন্ট সেকশনে হাজার হাজার অনুরাগী তাঁর এই পর্যবেক্ষণকে সমর্থন জানিয়ে নানা প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করছেন। উল্লেখ্য যে, নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলার এই গুণী শিল্পী ১৯৯২ সালে প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের পরিচালনায় 'এই দিন দিন না আরও দিন আছে' গানটির মাধ্যমে দেশজুড়ে যে আকাশচুম্বী জনপ্রিয়তা পেয়েছিলেন, তা আজও অমলিন। করোনাকালীন সচেতনতা বৃদ্ধিতে ব্র্যাকের 'জাইনা চলেন, মাইনা চলেন' গানে তাঁর অংশগ্রহণ কিংবা অসংখ্য বিজ্ঞাপন ও নাটকে তাঁর দরদী কণ্ঠের উপস্থিতি তাঁকে সাধারণ মানুষের অত্যন্ত কাছের এক ব্যক্তিতে পরিণত করেছে। জীবনের অধিকাংশ সময় গান ও লোকজ সংস্কৃতির প্রচার ও প্রসারে উৎসর্গ করা কুদ্দুস বয়াতি নির্বাচনের এই মাহেন্দ্রক্ষণে তাঁর এই মন্তব্যের মাধ্যমে মূলত সমাজ ও রাজনীতির এক পুরনো বৈপরীত্যকেই নতুন করে সামনে নিয়ে এসেছেন, যা সাধারণ মানুষের মাঝে ব্যাপক কৌতূহল ও আলোচনার খোরাক জোগাচ্ছে।
Shamiur Rahman
