নির্মাণ ব্যবসার আড়ালে টেন্ডার রাজত্ব

কে এই ক্ষমতাধর লবিস্ট জামাল উদ্দিন?

Published: 09 May 2026 18:05

সাবেক বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান এবং গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রীর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত ছিলেন জামাল উদ্দিন। এই প্রভাবশালী মহলের আশীর্বাদে তিনি একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে তোলেন

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা এবং নির্মাণ ব্যবসায়ী মো. জামাল উদ্দিনকে ঘিরে বেরিয়ে আসছে চাঞ্চল্যকর সব তথ্য। অভিযোগ উঠেছে, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে রাজনৈতিক পরিচয় ও প্রভাব খাটিয়ে নোয়াখালী থেকে গণপূর্ত অধিদপ্তর পর্যন্ত একচ্ছত্র আধিপত্য ও টেন্ডারবানিজ্যে রাজত্ব কায়েম করেছিলেন তিনি।

রাজনৈতিক পরিচয়

মো. জামাল উদ্দিন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপ-কমিটির শিল্প ও বাণিজ্য বিষয়ক সদস্য ছিলেন। দলীয় সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় থাকার পাশাপাশি তিনি নোয়াখালী-১ (চাটখিল-সোনাইমুড়ী) আসন থেকে সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী হওয়ারও প্রত্যাশী ছিলেন।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অত্যন্ত আস্থাভাজন হওয়ায় ২০২৪ সালে তার চার দিনের চীন সফরে ১৯৬ জন সফরসঙ্গীর মধ্যে জামাল উদ্দিনের নাম ১৪১ নং ক্রমিকে অন্তর্ভুক্ত ছিল।

উচ্চ মহলে ঘনিষ্ঠতা

জানা গেছে, সাবেক বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান এবং গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রীর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত ছিলেন জামাল উদ্দিন। এই প্রভাবশালী মহলের আশীর্বাদে তিনি আবাসন খাত এবং গণপূর্ত অধিদপ্তরে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে তোলেন।

অভিযোগ রয়েছে, তার মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান 'এম জামাল এন্ড কোম্পানী লিমিটেড'-এর নামে প্রভাব খাটিয়ে গণপূর্ত অধিদপ্তরের বড় বড় সব প্রকল্প বাগিয়ে নিতেন তিনি। তার নিয়ন্ত্রণে থাকা উল্লেখযোগ্য প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে: নোয়াখালী মেডিকেল কলেজ ও নোয়াখালী সদর হাসপাতাল, সুনামগঞ্জ বঙ্গবন্ধু মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল, বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভ ভবন ও জাতীয় সংসদ সচিবালয় আবাসন ও পুলিশ অফিসার্স মেস, মিরপুর পুলিশ কমপ্লেক্স এবং উত্তরা অ্যাপার্টমেন্ট প্রকল্প।

ভোল পাল্টানোর চেষ্টা:

আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর নিজের অস্তিত্ব রক্ষায় মো. জামাল উদ্দিন এখন ভোল পাল্টানোর চেষ্টা করছেন বলে জানা গেছে। বর্তমানে তিনি বিএনপি নেতাদের ঘনিষ্ঠ হওয়ার আপ্রাণ চেষ্টা চালাচ্ছেন এবং পুরাতন লবিস্টদের কাজে লাগিয়ে বর্তমান গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ে তদবির ও টেন্ডার কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার অপচেষ্টা করছেন।

সচেতন মহলের ধারণা, তার ক্ষমতার অপব্যবহার এবং অবৈধ সম্পদ অর্জনের বিষয়ে সুষ্ঠু তদন্ত শুরু হলে আরও ভয়াবহ দুর্নীতির চিত্র বেরিয়ে আসবে।

Shamiur Rahman

Please share your comment:

Related