রাজবাড়ীতে হঠাৎ পদ্মায় ভাঙ্গন
অসময়ে পদ্মায় ভাঙ্গনের জন্য বালু উত্তোলনকেই দায়ী করছেন তারা। ভাঙ্গন শুরু হলেও এখন পর্যন্ত প্রশাসনিকভাবে কোন উদ্যোগ দৃশ্যমান নয়।
হঠাৎ পদ্মার পানি ও স্রোত বেড়ে ভাঙনে দিশেহারা রাজবাড়ীর পদ্মা নদীপাড়ের বাসিন্দারা। গত পাঁচদিনের ভাঙনে নদীতে বিলীন হয়েছে দেবগ্রামের অন্তত ১০টি বসতভিটাসহ প্রায় ৩০ একর ফসলি জমি।
হুমকিতে নদী তীরবর্তী তিনটি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও একটি কমিউনিটি ক্লিনিকসহ বিভিন্ন স্থাপনা। আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে দেবগ্রাম ও দৌলতদিয়া ইউনিয়নের কয়েকশ পরিবার।
বৃহস্পতিবার (৯অক্টোবর) সরেজমিনে দেখা গেছে, দেবগ্রাম ইউনিয়নের দেবগ্রাম ও কাওয়ালজানি গ্রামে ভাঙন চলছে। পদ্মার পানি বাড়ার সঙ্গে তীব্র স্রোত দেখা দেওয়ায় থেমে থেমে বসতভিটা ও কৃষিজমি বিলীন হয়ে যাচ্ছে।
-2024-10-11-00-49-39.jpeg)
নদীর পাড়ে থাকা পরিবারগুলো ঘরবাড়ি অন্যত্র সরিয়ে নিচ্ছে। চোখের সামনে আবাদি জমি বিলীন হয়ে যাচ্ছে।
ভাঙন পরিস্থিতি দেখতে নানা বয়সী মানুষ দূর-দূরান্ত থেকে আসছেন। কেউ কেউ ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে সহযোগিতা করছেন।
নদী থেকে মাত্র ১০ গজ দূরে খবির সরদারের বাড়ি। একসময় নদী থেকে এই বাড়ি ছিল এক মাইল দূরে। ভাঙতে ভাঙতে এখন বাড়ির কিনারে নদী এসেছে। এতদিন টিকলেও শেষ পর্যন্ত নিজের বাড়ি রক্ষা করতে পারছেন না। আকস্মিক ভাঙনে কোথায় যাবেন, ঠিক করতে পারেননি। শ্বশুরবাড়ির লোকজন, মেয়ে ও জামাই পরিবারের লোকজন এসে তাকে কাজে সহযোগিতা করছেন। ঘরের জিনিসপত্র অন্যত্র সরিয়ে নিচ্ছেন খবির সরদারের মেয়ে।
তিনি বলেন, পাঁচদিন ধরে ভাঙছে। গত কয়েকদিন ধরে সারারাত আমরা একটুও ঘুমাইনা। চাপের পর চাপ ভেঙে পড়ছে। ভয়ে সারা রাত সবাই নদীর পাড়েই বসেছিলাম। আপাতত ঘরের জিনিসপত্র গ্রামের একজনের বাড়ি রেখেছি, পরে সরিয়ে নেওয়া হবে।
কাওয়ালজানির ৮৫ বছর বয়সী বৃদ্ধ আব্দুল মালেক শেখ বলেন, চোখের সামনে বাপ-দাদার ভিটেমাটি, চাষাবাদের জমি, সব গিলে খেয়েছে পদ্মা। পদ্মায় তিন ভাঙা দিয়ে বর্তমানে কাওয়ালজানি গ্রামে বসবাস করছি। গতকাল বাড়িঘর সরিয়ে নিতে পারলেও বসতভিটা ভেঙে নদীতে চলে গেছে। পরিবার নিয়ে একজনের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছি। কোথায় যাবো কি করবো ভেবে পাচ্ছি না।
এদিকে, পদ্মার ভাঙ্গন রোধে এলাকাবাসী মানববন্ধন করেছেন। অসময়ে পদ্মায় ভাঙ্গনের জন্য বালু উত্তোলনকেই দায়ী করছেন তারা। ভাঙ্গন শুরু হলেও এখন পর্যন্ত প্রশাসনিকভাবে কোন উদ্যোগ দৃশ্যমান নয়। এনিয়ে স্থানীয়রা এই প্রতিবেদকের কাছে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
এই বিষয়ে জানতে চাইলে রাজবাড়ী পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী এম এ শামীম বলেন, ইতিমধ্যে বিশেষজ্ঞ টীম ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেছেন। বিষয়টি আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। এখন তারা আমাদের যেভাবে নির্দেশনা দেবেন আমরা সেই মোতাবেক কাজ করবো।
Shamiur Rahman
