ঢাকায় ঘুরেফিরে ৫ প্রভাবশালী নির্বাহী প্রকৌশলী
গনপূর্তে বদলী নিয়ে অস্থিরতা চরমে
গণপূর্ত অধিদপ্তরের শতাধিক কর্মকর্তা নজরদারিতে। যারা দীর্ঘদিন ঢাকার বাইরে, তাদের স্বপ্ন আবারও ধূলিসাৎ
গণপূর্ত অধিদপ্তরে সব সময় নতুন প্রধান প্রকৌশলী যোগদান করার সঙ্গে সঙ্গে নতুন সিন্ডিকেটের উদয় হয়। প্রকৌশলী থেকে ঠিকাদার সবাই প্রতিষ্ঠান প্রধানের আস্থাভাজন হওয়ার চেষ্টায় থাকেন।
বর্তমান প্রধান প্রকৌশলী শামীম আখতারও এর ব্যতিক্রম নন। বর্তমানে তাকে ঘিরেই গড়ে উঠেছে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট। এরাই গনপূর্ত অধিদপ্তরে বদলী, নিয়োগ, পদায়ন, টেন্ডারসহ সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করে থাকে।
সিন্ডিকেট, অনিয়ম ও অস্থিরতার কারণে প্রতিষ্ঠানটির সাথে সরকারি অনেক দপ্তর কাজ বাস্তবায়নের চুক্তি থেকে সরে যাচ্ছে বলে জানা যায়। অতিমাত্রায় অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে গণপূর্ত অধিদপ্তরের শতাধিক কর্মকর্তা নজরদারিতে রয়েছেন বলে জানা যায়।
গণপূর্ত অধিদপ্তরে প্রধান প্রকৌশলীর আস্থাভাজন প্রভাবশালী প্রকৌশলীদের ঢাকা ছাড়তে হয় না। ঘুরেফিরে নিজেদের ‘ইচ্ছামাফিক’ ঢাকার এক ডিভিশন থেকে আরেক ডিভিশনে বদলি হন! মন্ত্রী, সচিব, প্রধান প্রকৌশলী আর প্রভাবশালী রাজনীতিবিদদের কোটায় মূলত এই নির্বাহী প্রকৌশলীর মতো গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে বসেন প্রকৌশলীরা।
আজ রোববার বিকেলে ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ ৫ ডিভিশনে বদলি–সংক্রান্ত এক অফিস আদেশ জারি হয়েছে। সেখানেও এই পাঁচ প্রভাবশালী প্রকৌশলীই চেয়ার পেয়েছেন, যাঁরা দীর্ঘ সময় ঢাকার বিভিন্ন দপ্তরে কর্মরত ছিলেন।
গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী মোহাম্মদ শামীম আখতারের স্বাক্ষর করা পৃথক দুটি অফিস আদেশে দেখা যায়, শেরবাংলা নগর গণপূর্ত বিভাগ–৩–এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মাসুদ রানাকে ঢাকা গণপূর্ত বিভাগ–৪; ঢাকা গণপূর্ত বিভাগ–১–এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আতিকুল ইসলামকে শেরেবাংলা নগর গণপূর্ত বিভাগ–৩; ঢাকা গণপূর্ত বিভাগ–৪–এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সাইফুজ্জামান চুন্নুকে ঢাকা গণপূর্ত বিভাগ–১; মহাখালী গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আমান উল্লাহ সরকারকে শেরেবাংলা নগর গণপূর্ত বিভাগ–২ এবং শেরেবাংলা নগর গণপূর্ত বিভাগ–২–এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মেহেদী হাসানকে মহাখালী গণপূর্ত বিভাগে বদলি করা হয়েছে।
এই প্রকৌশলীরা চাকরি জীবনে সহকারী প্রকৌশলী, উপবিভাগীয় প্রকৌশলী ও নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে ঢাকার বিভিন্ন ডিভিশনে দীর্ঘ সময় দায়িত্ব পালন করেছেন।
এই ৫ জন প্রভাবশালী নির্বাহী প্রকৌশলীর মধ্যে অন্তত ৩ জন প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে একাধিকবার দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার, জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ উঠেছে। এই ৩ নির্বাহী প্রকৌশলীর নানা অনিয়মের চিত্র নিয়ে দ্যা ফিন্যান্স টুডেতে একাধিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। তবুও টনক নড়েনি যথাযথ কর্তৃপক্ষের।
এর আগে, গত ২৪ মার্চ একসাথে বেশ কয়েকজন উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী বদলির কারণে আবার আলোচনায় আসে গণপূর্ত অধিদপ্তর। এই আদেশের পর অনেকেই ক্ষুব্ধ হন। কারণ হিসেবে অনেকেই অভিযোগ করেন বিপুল পরিমাণ অর্থের বিনিময়ে এই আদেশটি করা হয়।
বদলি আদেশে দেখা যায়, পদায়নকৃতদের ঢাকা থেকে ঢাকায় বদলি করা হয়েছে। ফলে যারা দীর্ঘদিন ঢাকার বাইরে তাদের স্বপ্ন ধূলিসাৎ হয়ে যায়। রমজানের ঈদের আগে একটি বিশেষ সিন্ডিকেট এই বদলি বাণিজ্য করে বলে অভিযোগ পাওয়া যায়। এই বদলিকে ঘিরে যে অনিয়ম সাধিত হয় গনপূর্ত অধিদপ্তরে সেটিও দ্যা ফিন্যান্স টুডের বিশেষ অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসে। এনিয়েও প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।
বদলী সংক্রান্ত এসব অভিযোগের বিষয়ে প্রধান প্রকৌশলী শামীম আখতারের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, গণপূর্ত অধিদপ্তরে বদলী নিয়ে কোনো অস্থিরতা নেই, সব স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় চলছে। যদি কোনো সিন্ডিকেট বা কেউ আমার নাম ভাঙিয়ে কিছু করার চেষ্টা করে সেক্ষেত্রে আমাকে অবহিত করলে আমি তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহন করবো।
Shamiur Rahman
