কার্যালয়ে বসে কাজ করার সময় শহীদ হন খামেনি: ইরানের রাষ্ট্রীয় টিভি

Published: 01 March 2026 13:03

ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিলের এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতির মাধ্যমে দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন নিশ্চিত করেছে যে, সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি গত শনিবার ভোরে তেহরানস্থ তাঁর দাপ্তরিক কার্যালয়ে অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে

ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিলের এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতির মাধ্যমে দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন নিশ্চিত করেছে যে, সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি গত শনিবার ভোরে তেহরানস্থ তাঁর দাপ্তরিক কার্যালয়ে অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালনরত অবস্থায় মার্কিন ও ইসরায়েলি বাহিনীর এক যৌথ ও অতর্কিত হামলায় শাহাদাত বরণ করেছেন।

বিবিসির 'ভেরিফাই' টিমের উপগ্রহ চিত্র বিশ্লেষণও এই খবরের সত্যতা নিশ্চিত করেছে, যেখানে দেখা গেছে যে তেহরানের সুরক্ষিত ‘লিডারশিপ হাউস কমপাউন্ড’ তথা খামেনির প্রধান কার্যালয়টির একটি বিশাল অংশ এই বিধ্বংসী আক্রমণে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজের দাবি অনুযায়ী, খামেনি শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত নিজ দপ্তরে উপস্থিত থেকে জীবন উৎসর্গ করে এটিই প্রমাণ করেছেন যে তাঁর আত্মগোপনে থাকার প্রচারগুলো ছিল মূলত শত্রুপক্ষের এক হীন মানসিক অপকৌশল।

অন্যদিকে, ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সুর মিলিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ এক অত্যন্ত আক্রমণাত্মক ও বিজয়োন্মত্ত পোস্টে খামেনিকে ‘ইতিহাসের অন্যতম নিষ্ঠুর ব্যক্তি’ হিসেবে আখ্যায়িত করে তাঁর মৃত্যুকে বিশ্ববাসীর জন্য এক ‘কাঙ্ক্ষিত বিচার’ বলে দাবি করেছেন।

ট্রাম্পের মতে, মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা ও অত্যাধুনিক ট্র্যাকিং সিস্টেমের নিখুঁত নিশানায় পরিচালিত এই যৌথ অভিযান থেকে খামেনি বা তাঁর সহযোগীদের বাঁচার কোনো সুযোগ ছিল না। একই সাথে তিনি ইরানের সশস্ত্র বাহিনী ও পুলিশ সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন যাতে তাঁরা বর্তমান সরকারের মোহ ত্যাগ করে ইরানি দেশপ্রেমিকদের সাথে একাত্ম হন, অন্যথায় পুরো সপ্তাহজুড়ে এই বিধ্বংসী বিমান হামলা অব্যাহত রাখার এবং অবাধ্যদের সমূলে বিনাশ করার এক চরম হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন তিনি।

মাত্র এক দিনের ব্যবধানে শীর্ষ নেতৃত্ব হারানো এবং অবকাঠামোগতভাবে ব্যাপকভাবে বিধ্বস্ত ইরানের এই সংকটময় মুহূর্তে ট্রাম্প একে ‘দেশ ফিরে পাওয়ার সুযোগ’ হিসেবে অভিহিত করলেও, মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্ব রাজনীতিতে এই ঘটনা এক চরম অস্থিরতা ও নজিরবিহীন যুদ্ধের শঙ্কা বাড়িয়ে তুলেছে।

Shamiur Rahman

Please share your comment:

Related