ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের চেষ্টা

গনপূর্ত অধিদপ্তরকে অশান্ত করে প্রধান প্রকৌশলীকে সরিয়ে দিতে চায় একটি মহল

Published: 20 May 2024 15:05

গনপূর্ত অধিপ্তরের বিরাজমান ঘটনা প্রবাহ ও ডিপ্লোমা প্রকৌশলী সমিতির চলমান আন্দোলন নিয়ে অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলীকে ঘিরে বিভিন্ন গনমাধ্যমে বিভিন্ন সংবাদ প্রকাশিত হয়ে আসছে। এ সংবাদ প্রকাশের পর দেশের সাধারন জনগনের অধিদপ্তরের প্রধ

গনপূর্ত অধিপ্তরের বিরাজমান ঘটনা প্রবাহ ও ডিপ্লোমা প্রকৌশলী সমিতির চলমান আন্দোলন নিয়ে অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলীকে ঘিরে বিভিন্ন গনমাধ্যমে বিভিন্ন সংবাদ প্রকাশিত হয়ে আসছে। এ সংবাদ প্রকাশের পর দেশের সাধারন জনগনের মনে অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলীর প্রতি এক ধরনের বিরূপ ধারনার সৃষ্টি হচ্ছে। ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের বিভিন্ন ধরনের দাবী-দাওয়া থাকাটা অসাভাবিক নয়। তা নিরসন ও সমাধানের দায়িত্ব ও প্রধান প্রকৌশলী ও তার দপ্তরের এটা একটা অস্বাভাবিক প্রক্রিয়া।

অনুসন্ধানে ভিডিও চিত্রে দেখা গেছে যে প্রধান প্রকৌশলীর সাথে সমিতির নেতৃবৃন্দের মিটিং পরবর্তী গাড়ী ঘিরে ধরা ও গাড়ীর সাথে সমিতির সাধারন সম্পাদকের ধাক্কা খাওয়া। কিন্তু পরবর্তী পর্যায়ে সমিতির নেতৃবৃন্দ ও সদস্যরা প্রধান প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে যে সমস্ত বিষেদগার ও সমিতির সাধারন সম্পাদককে হত্যার উদ্দ্যেশ্যে গাড়ী চাপা দেওয়ার অভিযোগ এনেছে তা একেবারেই অমুলক। এ জাতীয় বক্তব্য প্রতিষ্ঠান প্রধানের বিরুদ্ধে এনে তৃতীয় কোন পক্ষকে সুযোগ করে দেওয়ার তথ্য ও প্রমান মিলিছে। একটা প্রবাদ আছে “ঝড়ে বক মরে-ফকিরের কেরামতি বাড়ে”। সুযোগ সন্ধানী ও প্রধান প্রকৌশলীর চেয়ারে প্রত্যাশী কিছু কর্মকর্তা ইন্ধন দিচ্ছে এ জাতীয় অসংখ্য তথ্য ও প্রমান মিলিছে।

সমিতির নেতৃবৃন্দের যৌক্তিক দাবী প্রধান প্রকৌশলী মেনে নিবেন এটাই স্বাভাবিক। কারন ডিপ্লোমা প্রকৌশলীগন গনপূর্ত অধিদপ্তরের উন্নয়ন কর্মকান্ডের অন্যতম অংশীদার। বিসিএস ক্যাডারের কিছু সিন্ডিকেটের সুবিধাবাদী প্রকৌশলীগন ও তাদের সুযোগের ফায়দা লুটেতে চাচ্ছে। দুর্নীতিবাজ কিছু নির্বাহী প্রকৌশলী ও তত্ত্বাধায়ক প্রকৌশলী “গরম তেলে ঘি ঢালছে”। এই সুযোগে কেউ প্রধান প্রকৌশলীর নিকট গিয়ে নিজেদের অত্যন্ত সাধু ও তার একান্ত অনুগত হিসেবে বিবেচিত হওয়ার চেষ্ঠা করছে আবার কিছু নির্বাহী প্রকৌশলীগন নিজেদের অবস্থান সুসংহত করার চেষ্ঠা ও করছে যা তাদের টেলিফোনের অডিও বার্তা থেকে পাওয়া গেছে।মোটের উপর কথা হলো স্মার্ট বাংলাদেশ বির্নিমানে গনপূর্ত অধিপ্তরের প্রতিটি কর্মকর্তা ও কর্মচারীর ভূমিকাই অনস্বীকার্য।

আমাদের অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে কয়েকজন শীর্ষ প্রকৌশলীর ভুমিকা ছিলো অধিদপ্তরকে অশান্ত করে দিয়ে প্রধান প্রকৌশলীকে সরিয়ে নিজেদের বহুল প্রত্যাশিত চেয়ারটি দখল করা। আর সেই মহেন্দ্রক্ষন হিসেবে সাম্প্রতিক ঘটনাকে পুঁজি করছে। যা অত্যন্ত দু:খজনক ও ভবিষ্যতে অধিদপ্তরের জন্য হতাশাজনক।

দুর্নীতির দায়ে অভিযুক্ত একাধিক প্রকৌশলী ও তাদের সহযোগী কয়েকজন তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী পিছন থেকে কলকাঠি নেড়েছে। এমনকি কিছু গনমাধ্যমকে ও লেলিয়ে দিয়েছে। এমনি কিছু টোপ “দ্য ফিন্যান্স টুডের” নিকট পরোক্ষভাবে এসেছে। ঘোলা পানিতে যে বা যাহারা মাছ শিকার করতে চায় তাহারা আর কিছু না হোক অধিদপ্তরের কল্যান তাদের কাম্য নয়। এক্ষেত্রে কয়েকজন ঠিকাদারের ও হাত রয়েছে। একটি বিষয় নিয়ে খুব লেখালেখি হচ্ছে তা হলো একই বিল একাধিকবার উত্তোলন বা উত্থাপন যদি তা হয় তাহলে অবশ্যই তা গর্হিত অন্যায় এবং অর্মাজনীয় অপরাধ। এ প্রক্রিয়ার সাথে যুক্ত যদি কোন কর্মকর্তা থাকে তাহলে কে কে এই প্রক্রিয়ার সাথে যুক্ত তা সনাক্ত করতে হবে।

ইতোমধ্যে “দ্য ফিন্যান্স টুডে” এ নিয়ে একটি সংবাদ প্রকাশ করেছে তা হলো বিল তোলার বা জমাদানের প্রক্রিয়াটি কি?
তথ্য অনুসন্ধানে দুই ধরনের বক্তব্য পাওয়া যাচ্ছে একটি হলো এ জাতীয় বিল তোলার কোন সুযোগ নেই এ বক্তব্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের। অপর একটি তথ্য বলছে তদন্ত সাপেক্ষে দোষী সাবাস্থ হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

চলমান অনুসন্ধান ধ্রুমজালের মধ্যে রয়েছে। প্রকৃত সত্য বের করতে হলে আরও একটু সময় লাগবে। গনপূর্ত অধিদপ্তরে বিল জমা দানের পূর্বে ও কিছু প্রক্রিয়া থাকে তা হলো বাজেট বরাদ্দ ও অনুমোদন, টেন্ডার আহব্বান ও সংশ্লিষ্ট কাজ সমাপ্ত হওয়ার পর অডিট প্রতিবেদন।চুড়ান্ত পর্যায়ে বিল ছাড় করন।

অতএব এক্ষেত্রে শুধুমাত্র উপ-সহকারী প্রকৌশলী ও উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলীর পক্ষে বিল জমা দেওয়া ও তোলা সম্ভব নয়। এ প্রক্রিয়ায় যদি কোন অনিয়ম হয়ে থাকে। তাহলে এর সাথে আর কে কে অভিযুক্ত তাদেরও এ আইনের আওতায় আনতে হবে।

বর্তমানে প্রধান প্রকৌশলীর ইমেজ ক্ষুন্ন হওয়া মানে পুরো অধিপ্তর এর ভাব মুর্তি ক্ষুন্ন হওয়া। এ ব্যাপারে সকলকে সর্তক থাকা প্রয়োজন বলে সংশ্লিষ্ট মহল মনে করে।

অধিদপ্তরের ভিতর ঘাপটি মেরে থাকা কিছু নির্বাহী প্রকৌশলী ও তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী রয়েছে যাদের রয়েছে কোটি কোটি সম্পদ। “দ্য ফিন্যান্স টুডে” অনুসন্ধানে তা বেরিয়ে এসেছে। এরা আবার প্রকৌশলীদের শীর্ষ সংগঠনের নেতা ও কেউ কেউ সাবেক প্রধান প্রকৌশলীর ক্যাশিয়ার হিসেবে খ্যাত। এরাই মুলত: নাটের গুরু। বর্তমানে প্রধান প্রকৌশলী যেন এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে না পরে তাই পরিস্থিতিকে অশান্ত করে তুলেছে। আমাদের চলমান অনুসন্ধানে বিস্তারিত তুলে ধরতে নিরন্তর প্রচেষ্ঠা অব্যাহত আছে।

 

 

Related