ঐতিহাসিক ভুল করছেন না তো?

আধুনিক রাজনীতিতে ব্যক্তি-পূজার সংস্কৃতি

Published: 11 November 2025 09:11

নেতাকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে একধরনের আধুনিক “ভক্তি সংস্কৃতি”, যেখানে যুক্তি, মতভেদ বা প্রশ্ন তোলা—সবই অপরাধের সমান

আজকের রাজনীতি ক্রমশ এক অদ্ভুত মোড় নিয়েছে। যেখানে এক সময় নেতৃত্ব মানে ছিল নীতি, আদর্শ ও জনকল্যাণ; এখন সেখানে স্থান নিয়েছে ব্যক্তি-পূজা। নেতাকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে একধরনের আধুনিক “ভক্তি সংস্কৃতি”, যেখানে যুক্তি, মতভেদ বা প্রশ্ন তোলা—সবই অপরাধের সমান।

আগে মানুষ দেবতার কৃপা পেতে নাম জপ করত, এখন অনেকেই রাজনৈতিক নেতার ছবি, নাম বা বক্তব্যকে একইভাবে ব্যবহার করছে। কোনো অনুষ্ঠানে, পোস্টারে, ব্যানারে এমনকি ব্যক্তিগত জীবনের কোন সিদ্ধান্ত নিতেও “নেতার অনুমতি” বা “নেতার আশীর্বাদ” চাওয়া হচ্ছে। যেন নেতা এক আধুনিক দেবতা—যার নামে উন্নয়ন, পদোন্নতি কিংবা ক্ষমতার দরজা খুলে যায়।

এই সংস্কৃতির মূল কারণ স্বার্থ আর ভয়। যারা ক্ষমতার কাছাকাছি থাকতে চায়, তারা নেতাকে পূজা করে নিজের নিরাপত্তা বা সুবিধা নিশ্চিত করে। আবার সংগঠনের ভেতর এমন পরিবেশ তৈরি হয় যেখানে নেতাকে প্রশ্ন করা মানে “বিশ্বাসঘাতকতা”। ফলে নীতি ও আদর্শের জায়গায় জন্ম নেয় চাটুকারিতা ও অন্ধ অনুসরণ।

এর ফলে রাজনীতি হারাচ্ছে তার মানবিক ও প্রকৃত গণতান্ত্রিক চরিত্র। জনতার কণ্ঠস্বর চাপা পড়ে যাচ্ছে ব্যক্তির প্রশস্তিগানে। সমাজে যুক্তি, বিতর্ক, সমালোচনা—যা গণতন্ত্রের প্রাণ, সেগুলো নিঃশেষ হয়ে যাচ্ছে “ভক্তির আগুনে”।

আজ প্রয়োজন এমন এক নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতি, যেখানে মানুষ নেতাকে নয়, নীতি ও আদর্শকে পূজা করবে। কারণ নেতা আসেন ও চলে যান, কিন্তু নীতি চিরস্থায়ী।

রাজনীতি যদি আবার মানুষের হয়, তবে এই “ব্যক্তি-পূজার রাজনীতি” থেকে আমাদের মুক্তি পেতেই হবে।

Shamiur Rahman

Related