বাহরাইনের প্রধান তেল শোধনাগারে হামলা

Published: 09 March 2026 16:03

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ইরান-যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যুদ্ধের ভয়াবহতা আরও ছড়িয়ে পড়ে সোমবার (৯ মার্চ) বাহরাইনের প্রধান তেল শোধনাগার ‘বাপকো’ (Bapco) এক বিধ্বংসী ড্রোন হামলার শিকার হয়েছে

 

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ইরান-যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যুদ্ধের ভয়াবহতা আরও ছড়িয়ে পড়ে সোমবার (৯ মার্চ) বাহরাইনের প্রধান তেল শোধনাগার ‘বাপকো’ (Bapco) এক বিধ্বংসী ড্রোন হামলার শিকার হয়েছে।

 

প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, সোমবার ভোরে ইরানের এই ড্রোন হামলার পরপরই সিতরা দ্বীপে অবস্থিত বাহরাইনের এই একমাত্র এবং সর্ববৃহৎ শোধনাগারটি থেকে ঘন কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলী আকাশে উঠতে দেখা যায়।

 

বাহরাইন সরকারের পক্ষ থেকে প্রাথমিকভাবে সিতরা এলাকায় ক্ষয়ক্ষতির পাশাপাশি ৩২ জন বেসামরিক নাগরিক আহত হওয়ার খবর নিশ্চিত করা হয়েছে, যাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক।

 

এই নজিরবিহীন হামলার প্রেক্ষাপটে বাহরাইনের রাষ্ট্রীয় জ্বালানি কোম্পানি ‘বাপকো এনার্জিস’ তাদের কার্যক্রমে ‘ফোর্স মাজুর’ (Force Majeure) বা অনিবার্য পরিস্থিতির কারণে চুক্তি পালনে অক্ষমতা ঘোষণা করেছে; যার অর্থ হলো উদ্ভূত পরিস্থিতির ওপর নিয়ন্ত্রণ না থাকায় কোম্পানিটি বর্তমানে আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের কাছে চুক্তি অনুযায়ী তেল সরবরাহ করার আইনি বাধ্যবাধকতা থেকে সাময়িক অব্যাহতি চাচ্ছে।

 

যদিও কোম্পানিটি আশ্বস্ত করেছে যে তাদের পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী অভ্যন্তরীণ বাজারের জ্বালানি চাহিদা মেটানোর মতো পর্যাপ্ত সক্ষমতা এখনো রয়েছে, তবে দেশটির মোট জিডিপির সিংহভাগ যোগান দেওয়া এই কৌশলগত শোধনাগারটিতে আঘাত আসায় বাহরাইনের অর্থনীতিতে এক গভীর সংকটের ছায়া নেমে এসেছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই সংঘাতের ১০ম দিনে এসে বাহরাইনের এই প্রধান জ্বালানি স্থাপনাটি দ্বিতীয়বারের মতো আক্রমণের লক্ষ্যবস্তু হলো, যা কেবল উপসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা বলয়কেই প্রশ্নবিদ্ধ করেনি, বরং বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কায় জ্বালানির দামকে আরও উসকে দিয়েছে।

Shamiur Rahman

Please share your comment:

Related