শেয়ারবাজারে অস্থিতিশীলতার নেপথ্যে কী?
মূলত দেশের অর্থনীতি ভালো না থাকার মাশুল গুনছে পুঁজিবাজার
দেশের শেয়ারবাজারে হতাশা কাটছেই না। কারসাজিতে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার পাশাপাশি বাজার চাঙ্গা করতে উদ্যোগ নেয়ার দাবি জানিয়েছেন বিনিয়োগকারীরা।
তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মূলত দেশের অর্থনীতি ভালো না থাকার মাশুল গুনছে পুঁজিবাজার।
বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, শেয়ারের দর যখন বেড়েছিল তখন অনেকেই শেয়ার বিক্রি করে মুনাফা তুলেছেন। অনেকে অপেক্ষায় ছিলেন সরকার পরিবর্তনের পর মন্দা থেকে শিগগিরই শেয়ারবাজার আবার ঘুরে দাঁড়াবে। কিন্তু বাস্তবে তা না হওয়ায় আরও বেশি লোকসান থেকে বাঁচতে অধিকাংশ বিনিয়োগকারী শেয়ার বিক্রি করছেন। মূলত এই কারণেই লেনদেন বাড়ছে না, বরং কমছে।
নিজেদের শেয়ার বিক্রি করে ফের বিনিয়োগ করেনি এমন বিও অ্যাকাউন্টের সংখ্যা গত ১৪ কার্যদিবসে বেড়েছে ৬ হাজার ৪৩৪টি।
গত ১১ আগস্ট থেকে ১৪ কার্যদিবসে আশার পালে হাওয়া লাগিয়ে আবারও বাজারে ফিরেছেন ৯ হাজার ৮৯টি বিও অ্যাকাউন্টধারী বিনিয়োগকারী। অর্থাৎ হাসিনা সরকারের পতনের পর শেয়ারবাজার খানিকটা চাঙ্গা হলেও আবারও বিনিয়োগকারীদের ঘিরে ধরেছে হতাশা।
তারা বলছেন, বর্তমানে বাজার কিছুটা অস্থিতিশীল। সরকার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে শেয়ারবাজারেও পরিবর্তন হবে বলে আশা করা হয়েছিল। কিন্তু সেটি হয়নি।
মন্দাভাবের কবলে পড়া ঢাকার শেয়ারবাজারে গত সপ্তাহের ৪ কার্যদিবসের তিনদিনে দৈনিক লেনদেন ৭৩৩ কোটি ৪০ লাখ টাকা থেকে বুধবার (১৮ সেপ্টেম্বর) নামে ৫৫৩ কোটি ৬৬ লাখ টাকায়।
বৃহস্পতিবার অবশ্য লেনদেন আবার বেড়ে ৫৯৪ কোটি ৭৭ লাখ ঠেকে ঢাকার পুঁজিবাজারের দৈনিক লেনদেন। তবে এই সময়ে বাজার মূলধন আর প্রধান সূচক বেড়েছে খানিকটা।
উত্থান-পতনের এমন দোলাচলে যখন দুলছে দেশের শেয়ারবাজার; তখন এজন্য শুধু কারসাজিকে দায়ী করতে চান না ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবু আহমেদ।
তিনি বলেন, বলেন, শেয়ারবাজার এখন পর্যন্ত মোটামুটি ভালো অবস্থানেই আছে। বিনিয়োগকারী নির্ভর শেয়ারবাজার গড়ে তুলতে হবে।
তবে দেশের সার্বিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড শক্তিশালী না হলে শেয়ারবাজার কখনও ঘুরে দাঁড়াবে না-এমন মত এই পুঁজিবাজার বিশেষজ্ঞের।
তিনি আরও বলেন, যদি সামনে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ, জিডিপি বাড়ে ও মূল্যস্ফীতি কমে তাহলে পুঁজিবাজার সামনে ভালোর দিকে যাবে। কারণ এর প্রভাব শেয়ারবাজারেও পড়বে।
এদিকে, গত সপ্তাহের লেনদেন অবশ্য আগের সপ্তাহের মতো দাম বৃদ্ধির শীর্ষ ৫ কোম্পানির মধ্যে জেড-ক্যাটাগরির কোনো প্রতিষ্ঠান না থাকলে দাম কমতির তালিকায় থাকা শীর্ষ ৫ কোম্পানির মধ্যে তিনটিই থেকেছে সবচেয়ে ভালো মানের তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠান।
Shamiur Rahman
