সাবেক এলজিআরডিমন্ত্রীর এপিএসের সাড়ে ৫ কোটি টাকার সম্পত্তি জব্দ

Published: 25 November 2025 18:11

গত বৃহস্পতিবার ফরিদপুরের সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালত সম্পত্তি ক্রোকের এই আদেশ দিয়েছেন। ক্রোক করা সম্পত্তির মধ্যে রয়েছে একটি ফ্ল্যাটসহ মোট ৩৮ দশমিক ৯৩৩ শতাংশ জমি

‎মানিলন্ডারিং মামলায় স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের সাবেক মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশারফ হোসেনের সাবেক এপিএস এএইচএম ফুয়াদের পাঁচ কোটি ৪৪ লাখ ৯৫ হাজার ৫৮৬ টাকার সম্পত্তি ক্রোক করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ সিআইডি।

গত বৃহস্পতিবার ফরিদপুরের সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালত সম্পত্তি ক্রোকের এই আদেশ দিয়েছেন। ক্রোক করা সম্পত্তির মধ্যে রয়েছে একটি ফ্ল্যাটসহ মোট ৩৮ দশমিক ৯৩৩ শতাংশ জমি।

গতকাল সোমবার (২৪ নভেম্বর) সম্পত্তি ক্রোকের এই তথ্য গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) জসীম উদ্দিন খান।

ফুয়াদের বাড়ি ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার বিলনালিয়া গ্রামে। তাঁর বাবা মৃত মোজাহারুল ইসলাম চৌকদার এবং মা জাহানারা বেগম।

জসীম উদ্দিন খান জানান, মানিলন্ডারিং তদন্তে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী ফুয়াদ ছিলেন সাবেক মন্ত্রীর এপিএস। সেই সময় ফরিদপুর শহর আওয়ামী লীগের সভাপতি সাজ্জাদ হোসেন বরকত ও তার ভাই ইমতিয়াজ হোসেন রুবেলকে সঙ্গে নিয়ে তিনি ‘হেলমেট বাহিনী’ নামে একটি গ্রুপ গঠন করেন।

স্থানীয় সূত্র থেকে জানা গেছে, এই বাহিনী ব্যবহার করে এলজিইডি, স্বাস্থ্য প্রকৌশল, শিক্ষা অধিদপ্তর, গণপূর্ত, বিএডিসি, পাসপোর্ট অফিস, বিআরটিএ, রোডস অ্যান্ড হাইওয়েসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ করতেন ফুয়াদ। এসব টেন্ডার থেকে তিনি বড় অঙ্কের কমিশন গ্রহণ করে বিপুল সম্পদ গড়ে তোলেন।

জসীম উদ্দিন খান আরও জানান, বিভিন্ন ব্যক্তিকে ভয়ভীতি দেখিয়েও অর্থ আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। তদন্তে আরও জানা যায়, নিজের নামে ছাড়াও তার প্রথম স্ত্রী ফারজানা ফুয়াদ, দ্বিতীয় স্ত্রী তাছলিমা আক্তার বাবলী, দ্বিতীয় পক্ষের শাশুড়ি নাদিরা বেগমসহ অন্যান্য আত্মীয়দের নামে-বেনামে বহু জমি কেনার তথ্য। এসব সম্পত্তির দখল বর্তমানে তার ভাই ও ভাগনার হাতে রয়েছে। এমনকি বেনামে বিলাসবহুল বাস কিনে পরিবহণ খাতেও বিনিয়োগ করেছেন তিনি।

দীর্ঘ অনুসন্ধান শেষে সিআইডি বাদী হয়ে চলতি বছরের ৩ আগস্ট ফরিদপুরের কোতোয়ালি থানায় মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে একটি মামলা করে। বর্তমানে মামলার তদন্ত সিআইডির ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিট পরিচালনা করছে।

অপরাধের পূর্ণাঙ্গ তথ্য উদঘাটন, অন্যান্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের লক্ষ্যে সিআইডির অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

Shamiur Rahman

Related