গুরুতর অনিয়ম, তদন্তে পক্ষপাত এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ
পিবিআই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু
পিবিআই'র এসআই মো. সজিবুল হাসানের বিরুদ্ধে ওঠা গুরুতর অনিয়ম, তদন্তে পক্ষপাত এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ আমলে নিয়ে আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু করা হয়েছে
পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)–এর এক তদন্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ওঠা গুরুতর অনিয়ম, তদন্তে পক্ষপাত এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ আমলে নিয়ে আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু করা হয়েছে।
পিবিআই সূত্রে জানা গেছে, এসআই মো. সজিবুল হাসানের বিরুদ্ধে দাখিল করা অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এএসপি) ফারজানা ইমরোজ গত ২৯ এপ্রিল একটি আনুষ্ঠানিক তদন্ত আদেশ জারি করেন।
ওই আদেশের মাধ্যমে অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে পৃথক ও নিরপেক্ষ তদন্ত কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। ১৩ মে (বুধবার) সিআর মামলা নং ১৬৩/২০২৫ (শেরে বাংলা নগর) মামলার বাদী শুনানীতে অংশগ্রহণ করে অভিযুক্ত এসআই মো: সজিবুল হাসান কর্তৃক সিএমএম আদালতে প্রেরিত তদন্ত প্রতিবেদনের ত্রুটি, অনিয়ম ও পক্ষপাতিত্বের প্রমাণাদিসহ লিখিত জবানবন্দি তদন্তকারী কর্মকর্তা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফারজানা ইমরোজের কাছে প্রদান করেন।
আরও পড়ুন: দিনাজপুর নারী চেম্বারের সাবেক সভাপতির মামলা সিআইডিকে পুনঃতদন্তের নির্দেশ আদালতের
অভিযোগকারী কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন এসেট প্রকল্পের সাবেক উপপ্রকল্প পরিচালক খন্দকার খালেদ রিয়াজ জানান, তিনি প্রকল্পে কর্মরত অবস্থায় প্রকল্প পরিচালক মীর জাহিদ হাসান ও অতিরিক্ত প্রকল্প পরিচালক মোঃ আব্দুর রহিম তাকে মেডিকেল বোর্ডের অনুমোদন ছাড়াই শারীরিক ও মানসিকভাবে অসুস্থ উল্লেখ করে প্রকল্প থেকে প্রত্যাহার করায় তাদের বিরুদ্ধে পেনাল কোড ৫০০/৩৪ ধারায় ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন। বিজ্ঞ আদালত অভিযোগ আমলে নিয়ে পিবিআইকে তদন্তের নির্দেশ দেন।
তিনি অভিযোগ করেন যে, তদন্ত চলাকালে দায়িত্বপ্রাপ্ত পিবিআই কর্মকর্তা সজিবুল হাসান তার ওপর মামলা প্রত্যাহারের জন্য চাপ প্রয়োগ করেন এবং আসামিপক্ষের সঙ্গে সমঝোতায় যেতে উদ্বুদ্ধ করেন। এছাড়া তদন্ত প্রক্রিয়ায় গোপনীয়তা ভঙ্গ, গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষ্য ও প্রমাণ উপেক্ষা এবং পক্ষপাতমূলক আচরণের অভিযোগও তিনি উত্থাপন করেন।
অভিযোগপত্রে আরও দাবি করা হয়, মামলার তদন্তে সংশ্লিষ্ট কিছু নথি ও আলামত যথাযথভাবে আদালতে উপস্থাপন করা হয়নি এবং তদন্তে দীর্ঘসূত্রিতা সৃষ্টি করা হয়েছে, যা ন্যায়বিচার প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করছে।
নতুনভাবে শুরু হওয়া তদন্তে অভিযোগগুলোর প্রতিটি দিক যাচাই করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।
এই বিষয়ে অভিযুক্ত কর্মকর্তার পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। পিবিআইও এই বিষয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করা থেকে বিরত রয়েছে।
তবে সংস্থাটির একটি সূত্র জানায়, “যেকোনো অভিযোগকে গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করা এবং স্বচ্ছ তদন্তের মাধ্যমে সত্য উদঘাটনই পিবিআইয়ের নীতি।”
Shamiur Rahman

Please share your comment: