পুতিনের বাসভবনে হামলা, ইউক্রেনের প্রতি ক্ষুব্ধ ট্রাম্প

Published: 30 December 2025 21:12

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের বাসভবনে ড্রোন হামলার ঘটনায় ইউক্রেনের ওপর প্রচন্ড ক্ষুব্ধ হয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের বাসভবনে ড্রোন হামলার ঘটনায় ইউক্রেনের ওপর প্রচন্ড ক্ষুব্ধ হয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, “ইউক্রেনে মস্কোর আক্রমণ বন্ধ করা নিয়ে চলমান আলোচনার মধ্যে এই হামলা নিন্দনীয়। এটি ঠিক হয়নি। ”

ট্রাম্প আরও বলেন, “আপনি জানেন কে আমাকে এই সম্পর্কে বলেছে? প্রেসিডেন্ট পুতিন। তিনি ভোরে কল দিয়ে আমাকে বলেছেন যে, তার ওপর আক্রমণ করা হয়েছে। এটি ভালো নয়।”

ট্রাম্প ফ্লোরিডার মার-এ-লাগোতে অবস্থিত তার বাসভবনে সাংবাদিকদের বলেন, পুতিনের বাসভবনে ন্যাক্কারজনক এই হামলার ঘটনায় আমি খুবই ক্ষুব্ধ। এটি একটি নাজুক সময়। এটি সঠিক সময় নয়। আক্রমণাত্মক হওয়া এক জিনিস কারণ তারা আক্রমণাত্মক। কিন্তু পুতিনের বাড়িতে আক্রমণ করা অন্য জিনিস। এটি কোনও কিছু করার সঠিক সময় নয়।”

এদিকে, রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সেরগেই ল্যাভরভ দাবি করেছেন কিয়েভ রাশিয়ার উত্তর-পশ্চিম নভগোরোদ অঞ্চলে পুতিনের রাষ্ট্রীয় বাসভবনে ৯১টি ড্রোন দিয়ে হামলা চালিয়েছে।

সোমবার টেলিগ্রামে শেয়ার করা এক বিবৃতিতে ল্যাভরভ বলেন, পুতিনের বাসভবনে যে ৯১টি ড্রোন ছোড়া হয়েছিল তার সবগুলোই রাশিয়ার বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দ্বারা আটকানো এবং ধ্বংস করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, হামলার ফলে হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির কোনও খবর পাওয়া যায়নি। তবে তিনি রাশিয়ার দাবির পক্ষে কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করেননি বা বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেননি।

লাভরভ বলেন, ‘অপরাধী কিয়েভ শাসনের সম্পূর্ণ অবক্ষয়ের প্রেক্ষাপটে, যা রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসবাদের নীতিতে চলে গেছে, রাশিয়ার আলোচনার অবস্থান পুনর্বিবেচনা করা হবে।’

রাশিয়া জানিয়েছে, তারা এখন শান্তি আলোচনায় তাদের অবস্থান পর্যালোচনা করবে। তবে ওই হামলার সময় পুতিন কোথায় ছিলেন তা এখনও স্পষ্ট নয়।

অন্যদিকে, পুতিনের বাসভবনে হামলার বিষয়ে রাশিয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির জেলেনস্কি বলেছেন, ইউক্রেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের বাসভবনে ড্রোন হামলা চালায়নি।  মস্কো এই শান্তি আলোচনাকে ব্যহত করার চেষ্টা করছে।

জেলেনস্কি এই দাবিকে ‘রাশিয়ার মিথ্যাচার’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। তার দাবি, ইউক্রেনের ওপর ক্রেমলিনের আক্রমণ চালিয়ে যাওয়ার অজুহাত দেওয়ার জন্যই এসব অভিযোগ আনা হয়েছে।

ইউক্রেন বলছে, যুক্তরাষ্ট্র প্রণীত শান্তি পরিকল্পনার ৯০ শতাংশে তারা সম্মত হয়েছে, যার মধ্যে যুদ্ধোত্তর নিরাপত্তা নিশ্চয়তার বিষয়টিও রয়েছে। তবে ভূখণ্ড সংক্রান্ত বিষয়টি এখনো অমীমাংসিত রয়েছে। রাশিয়া কয়েক মাস ধরে যুদ্ধক্ষেত্রে অগ্রসর হচ্ছে।

কিয়েভ ও তার ইউরোপীয় মিত্রদের মতে, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইউরোপীয় ভূখণ্ডে সবচেয়ে বড় ও প্রাণঘাতী এই যুদ্ধটি উস্কানিহীন ও অবৈধ ভূমি দখলের চেষ্টা, যা ব্যাপক সহিংসতা ও ধ্বংসযজ্ঞ ডেকে এনেছে।

Shamiur Rahman

Related