বৈলাম বাংলাদেশের প্রকৃতির এক বিস্ময়কর বৃক্ষ রোপন
রবিবর (১৮ জানুয়ারি) সকাল ১০টায় রাজবাড়ী নার্সিং কলেজ প্রাঙ্গনে এই বৃক্ষ রোপন করা হয়
রাজবাড়ীতে প্রকৃতিপ্রেমি পলাশের উদ্যোগে ৬৪ জেলায় প্রতীকী বিপন্ন প্রজাতির বৈলাম বৃক্ষ রোপণের অংশ হিসেবে ৫৬ জেলা হিসাবে প্রায় বিলুপ্ত দুর্লভ গাছের চারা রোপণ করা হয়েছে।
রবিবর (১৮ জানুয়ারি) সকাল ১০টায় রাজবাড়ী নার্সিং কলেজ প্রাঙ্গনে এই বৃক্ষ রোপন করা হয়।
বৈলাম (বৈজ্ঞানিক নাম: Anisoptera scaphula) হলো বাংলাদেশের সবচেয়ে উঁচু, একটি মহাবিপন্ন বৃক্ষ প্রজাতি, যা ২০০ ফুটের বেশি লম্বা হতে পারে। এই বৃক্ষ জলবায়ু পরিবর্তন ও বাসস্থান ধ্বংসের কারণে বর্তমানে বিলুপ্তির পথে।
বৈলাম বৃক্ষ চট্টগ্রাম, পার্বত্য চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার অঞ্চলে পাওয়া যায়। এর শক্ত কাঠ ও ঐতিহ্যবাহী ঔষধি গুণ থাকলেও বর্তমানে এর সংখ্যা খুবই কম।
পরিবেশ ও প্রকৃতির পাঠশালার পরিচালক মাহবুবুর ইসলাম পলাশ বলেন, দেশীয় ও বিপন্ন প্রজাতির গাছ সংরক্ষণ না করলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম একটি প্রাণহীন বাংলাদেশ পাবেন। বৈলাম গাছ শুধু একটি বৃক্ষ নয়, এটি আমাদের প্রকৃতি ও জীববৈচিত্র্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এই উদ্যোগের মাধ্যমে মানুষকে সচেতন করতে চাই।
স্থানীয় পরিবেশপ্রেমীরা এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, এ ধরনের কর্মসূচি পরিবেশ রক্ষায় জনগণের মধ্যে ইতিবাচক সচেতনতা সৃষ্টি করে এবং দেশীয় গাছ সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
উল্লেখ্য, মাহবুবুর ইসলাম পলাশ দীর্ঘদিন ধরে ‘পরিবেশ ও প্রকৃতির পাঠশালা’ উদ্যোগের মাধ্যমে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ, বৃক্ষরোপণ, পরিবেশ শিক্ষা ও দূষণবিরোধী কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছেন। তার এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ ইতোমধ্যেই পরিবেশ আন্দোলনে অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশে মাত্র অল্প কিছু পরিপক্ক বৈলাম গাছ অবশিষ্ট আছে, যা এই প্রজাতিকে বিলুপ্তির দ্বারপ্রান্তে নিয়ে গেছে।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব ফরেস্ট্রি অ্যান্ড এনভায়রনমেন্ট (IFESCU) এই গাছটি রক্ষা ও বংশবিস্তারের জন্য গবেষণা করছে।
সংক্ষেপে, বৈলাম বাংলাদেশের প্রকৃতির এক বিস্ময়কর এবং বিপন্ন সম্পদ, যা সংরক্ষণের জন্য জরুরি পদক্ষেপ প্রয়োজন।
Shamiur Rahman
