জুলাই শহীদের ‘বিক্রি করে’ সমন্বয়করা আজ কোটি টাকার মালিক, অভিযোগ জুলাই শহীদের বাবার
জুলাই অভ্যুত্থানে শহীদদের হত্যাকাণ্ডের বিচার না হওয়া এবং শহীদ পরিবারগুলোর ন্যায্য অধিকার আদায় না হওয়ার অভিযোগ তুলে অন্তর্বর্তী সরকার ও আন্দোলনের নেতৃত্ব দেওয়া ছাত্র সমন্বয়কদের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন শহীদ পরিবারের
জুলাই শহীদের ‘বিক্রি করে’ সমন্বয়করা আজ কোটি টাকার মালিক, অভিযোগ জুলাই শহীদের বাবার
আব্দুর রহিম রিপন
স্টাফ রিপোর্টার
জুলাই অভ্যুত্থানে শহীদদের হত্যাকাণ্ডের বিচার না হওয়া এবং শহীদ পরিবারগুলোর ন্যায্য অধিকার আদায় না হওয়ার অভিযোগ তুলে অন্তর্বর্তী সরকার ও আন্দোলনের নেতৃত্ব দেওয়া ছাত্র সমন্বয়কদের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন শহীদ পরিবারের সদস্যরা। তাঁদের অভিযোগ, শহীদদের রক্তকে পুঁজি করে কিছু ছাত্র সমন্বয়ক আজ কোটি টাকার মালিক হয়েছেন, অথচ শহীদ পরিবারগুলো আজও বিচার ও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে।
শনিবার ঢাকার জাতীয় প্রেসক্লাব–এর মাওলানা আকরম খাঁ হলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন ‘জুলাই ২৪ শহীদ পরিবার সোসাইটি’। এতে শতাধিক শহীদ পরিবারের সদস্য অংশ নেন।
সংবাদ সম্মেলনে শহীদ শাহরিয়ার হাসান (আলভী)–এর বাবা মো. আবুল হাসান বলেন, “আমাদের সন্তানদের আত্মত্যাগকে ব্যবহার করে ছাত্র সমন্বয়কেরা আজ নিজেদের আঙুল ফুলে কলাগাছ করেছে। শহীদ পরিবারকে তারা বিক্রি করেছে। রাজনৈতিক দল গড়েছে, ক্ষমতার কাছাকাছি গেছে, অথচ আমরা এখনো আমাদের সন্তানদের হত্যাকারীদের বিচার চাইতে রাজপথে নামছি।”
তিনি অভিযোগ করেন, অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার দেড় বছর পেরিয়ে গেলেও জুলাই হত্যাকাণ্ডের বিচার প্রক্রিয়ায় কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই। তাঁর ভাষায়, “বিচারের নামে আমাদের শুধু ঘুমপাড়ানি গল্প শোনানো হচ্ছে। যদি এই সরকার কৃতজ্ঞ হতো, তাহলে আজ আমরা বিচার দেখতে পেতাম।”
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, শহীদ পরিবার ও আহতদের অনেকেই এখনো নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। আহতদের একটি বড় অংশ পর্যাপ্ত চিকিৎসা পায়নি বলেও অভিযোগ করা হয়। একই সঙ্গে জুলাই শহীদ ও জুলাই যোদ্ধাদের প্রকৃত সংখ্যা গেজেটে অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানানো হয়।
শহীদ পরিবারগুলোর পক্ষ থেকে ছয় দফা দাবি জানানো হয়, যার মধ্যে রয়েছে জুলাই হত্যাকাণ্ডের দ্রুত বিচার, আসামিদের গ্রেপ্তার, শহীদ ও আহত পরিবারের আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং শহীদদের এতিম সন্তানদের শিক্ষার দায়িত্ব রাষ্ট্রকে নেওয়া।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা হুঁশিয়ারি দেন, দাবি মানা না হলে আগামী দিনে আরও কঠোর কর্মসূচির দিকে যেতে বাধ্য হবেন তাঁরা।
Shamiur Rahman
