বিয়েতে দাওয়াত না পেয়ে ব্যানার-ফেস্টুন নিয়ে বন্ধুদের অভিনব ‘বিক্ষোভ’
‘টাকা লাগলে টাকা নিতি, তা-ও বন্ধুদের দাওয়াত দিতি’
শুক্রবার বিকেলে দৌলতদিয়া ঘাট-সংলগ্ন ঢাকা-খুলনা মহাসড়কে এসএসসি ২০১৫ ব্যাচের কয়েকজন বন্ধু এই কর্মসূচির আয়োজন করেন। এসময় তাঁদের হাতে ছিল নানা মজার মজার লেখাসংবলিত প্ল্যাকার্ড ও ব্যানার
প্রিয় বন্ধু অন্যদের না জানিয়েই বিয়ে করে ফেলেছেন—এমন অবস্থায় মন তো খারাপ হবেই। বন্ধুরা তাই রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ করলেন বন্ধুত্বের এহেন চরম অবমাননায়। ‘টাকা লাগলে টাকা নিতি, তা-ও বন্ধুদের দাওয়াত দিতি’—স্লোগানে রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ঘাট এলাকায় তাঁরা বিক্ষোভ মিছিল করেন।
আজ শুক্রবার বিকেলে দৌলতদিয়া ঘাট-সংলগ্ন ঢাকা-খুলনা মহাসড়কে এসএসসি ২০১৫ ব্যাচের কয়েকজন বন্ধু এই কর্মসূচির আয়োজন করেন। এসময় তাঁদের হাতে ছিল নানা মজার মজার লেখাসংবলিত প্ল্যাকার্ড ও ব্যানার।
গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া মডেল হাইস্কুলের এসএসসি ২০১৫ ব্যাচের শিক্ষার্থী ও স্থানীয় নুরু মণ্ডলপাড়ার শাকিল শেখ গত বৃহস্পতিবার বিয়ে করেন। পাত্রী দেখা ও উভয় পরিবারকে বোঝানোর কাজটি বন্ধুরাই করেন। বন্ধুদের সঙ্গে আগে থেকে পরিকল্পনা করলেও তাঁদের না জানিয়ে বিয়ে করায় তাঁরা এমন প্রতিবাদের পথ বেছে নেন। এতে ক্ষোভ নয়, বরং অভিমান থেকেই তাঁরা এমন ব্যতিক্রমী আয়োজন করেছেন।
গতকাল বিকেলে দৌলতদিয়া মডেল হাইস্কুল মাঠে জড়ো হন শাকিল শেখের কয়েকজন বন্ধু। এসময় তাঁরা ‘টাকা লাগলে টাকা নিতি, তাও বন্ধুদের দাওয়াত দিতি’ আয়োজনে এসএসসি ২০১৫ ব্যাচ গোয়ালন্দ লেখা ব্যানার ও ফেস্টুন নিয়ে বিকেল চারটার দিকে বিদ্যালয় মাঠে জড়ো হন। পরে তাঁরা শাকিলের বাড়ির কাছে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কে দাঁড়িয়ে নানা স্লোগান দিতে থাকেন।
শাকিলের বন্ধু মিশকাত সরদার বলেন, ‘শাকিল আমাদের খুবই ঘনিষ্ঠ বন্ধু। বিভিন্ন আচার-অনুষ্ঠানে ওর খাওয়া নিয়ে আমরা বেশ মজা করি। কমবেশি সবাই ওকে খাওয়ায়, কিন্তু শাকিল কাউকে কোনো দিন কিছু খাওয়ায় না। তাই সিদ্ধান্ত নিই, ওর বিয়েতে আমরা অনেক মজা করে খাব। বিয়ের জন্য পরিবারকে, এমনকি পাত্রী পক্ষকে বোঝানোর কাজটা আমরাই করি। তিনদিন আগে এক বন্ধু খোঁজ নিয়ে জানতে পারে, শুক্রবার শাকিলের বিয়ে। কিন্তু আগের দিন বৃহস্পতিবার সে বিয়ে করে ফেলে। ১৪-১৫ জন বন্ধু একত্র হয়ে মিছিল ও খিচুড়ির আয়োজন করি। পরে শাকিল অনেক ফোন করলেও কেউ ধরিনি। মজা নিতে প্রতীকী প্রতিবাদ হিসেবে আয়োজনটি করেছি।’
অভিমানী বিক্ষোভ মিছিলে অংশ নেওয়া তরুণেরা বলেন, বন্ধুত্বের সম্পর্কে লুকোচুরি চলে না। অন্তত বিয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ খবর বন্ধুদের জানানো উচিত ছিল। তাই ‘গোপন বিয়ের’ প্রতিবাদে তাঁরা রাজপথে নেমেছেন।
ব্যস্ত মহাসড়কে এমন ভিন্নধর্মী কর্মসূচি দেখে পথচারী ও যাত্রীদের মাঝে ঔৎসুক্য তৈরি হয়। অনেকেই দাঁড়িয়ে ছবি ও ভিডিও ধারণ করেন। অল্প সময়েই ঘটনাটি এলাকায় বেশ আলোচনার জন্ম দেয়।
তবে পুরো আয়োজনে ছিল হাস্যরসের ছোঁয়া। প্রতিবাদ শেষে বন্ধুরা নবদম্পতির সুখী ও সুন্দর দাম্পত্য জীবনের জন্য শুভকামনা জানান।
এই বিষয়ে শাকিল শেখ বলেন, ‘ওরা আমার সবাই ঘনিষ্ঠ বন্ধু। ওদের প্রতিবাদকে আমরা আনন্দ হিসেবে নিয়েছি। আমার মা অসুস্থ থাকায় বন্ধুদের দাওয়াত করতে পারিনি। তবে শিগগিরই বন্ধুদের একত্র করার ইচ্ছা আছে। বিষয়টি এভাবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়বে, ভাবতে পারিনি। এখন কিছুটা হলেও কেমন যেন অস্বস্তি লাগছে।’
Shamiur Rahman

Please share your comment: