ধুমপান নিয়ে বিবাদ
মালিবাগে সোহাগ পরিবহন কাউন্টারে হামলা-ভাঙচুর
হামলাকারীরা প্রথমে পলাশকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে জখম করে। এরপর কাউন্টারের ভেতরে ঢুকে ভাঙচুর চালিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায়। গুরুতর আহত অবস্থায় পলাশকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে
রাজধানীর মালিবাগ রেলগেট সংলগ্ন সোহাগ পরিবহনের কাউন্টারের সামনে ধুমপান করতে নিষেধ করাকে কেন্দ্র করে বাস কাউন্টারের সামনে স্থানীয় দুই যুবককে সঙ্গে তর্কে জড়ান পরিবহনটির পরিচালক; অপারেশন আলী হাসান পলাশ তালুকদার।। এই ঘটনার জেরে অর্ধ শতাধিক যুবক কাউন্টারে হামলা ও ভাঙচুর চালায়।
বুধবার (৩ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ১১টার দিকে এই ঘটনা ঘটে। এতে কাউন্টারের ১৪ থেকে ১৫ কর্মচারীসহ পলাশ নিজেও আহত হয়েছেন। তার গাড়িচালক মামুনও গুরুতর আহত হয়েছেন। বাকী আহতরা সিরাজুল ইসলাম মেডিক্যাল কলেজ সহ বিভিন্ন স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
উল্লেখ্য যে, আহত আলী হাসান পলাশ তালুকদার সোহাগ পরিবহনের মালিক ফারুক তালুকদার সোহেলের ছোট ভাই।
এই ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে রমনা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. নাহিদ বলেন, রাত সাড়ে ১১টার দিকে ৯৯৯-এ সংবাদ পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে ছুটে যাই। হামলার নেপথ্যে অন্য কোন কারণ আছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং ভিডিও ফুটেজ ধরে হামলাকারীদের শনাক্তের চেষ্টাও চলছে।
এদিকে, হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে রমনা বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) মাসুদ আহমেদ বলেন, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্ত শুরু করেছে। জড়িতদের গ্রেফতারে বিশেষ অভিযান শুরু হয়েছে। দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মালিবাগ সোহাগ পরিবহন কাউন্টারের সামনে দাঁড়িয়ে ধুমপান করছিলেন স্থানীয় দুই যুবক। এসময় কাউন্টার কর্তৃপক্ষ তাদের দূরে গিয়ে ধূমপান করতে বললে উভয় পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। পরবর্তীতে ওই দুই যুবকের ফোনে অর্ধশতাধিক লোকজন ঘটনাস্থলে আসলে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এসময় কাউন্টারে হামলা ও ভাঙচুর করা হয়।
হামলাকারীরা প্রথমে পলাশকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে জখম করে। এরপর কাউন্টারের ভেতরে ঢুকে ভাঙচুর চালিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায়। গুরুতর আহত অবস্থায় পলাশকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।
একাধিক সূত্র থেকে পাওয়া তথ্যে জানা গেছে, স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি বিল্লালের নেতৃত্বে ৬০ থেকে ৭০ জন নেতা-কর্মী এসে মব তৈরি করে টিকিট কাউন্টারে অতর্কিত হামলা চালায়। কাউন্টার ভাংচুরের পাশাপাশি নিরীহ যাত্রীদের মধ্যে কয়েকজনকে মারধর করা হয়। পরে সোহাগ পরিবহনের মালিক পক্ষের বাসভবনেও হামলার ঘটনা ঘটে। তবে ভেতরে ঢুকতে পারেনি তারা।
পলাশ তালুকদারের ভাই মাজেদুল হক নাদিম অভিযোগ করে বলেন, হামলাকারীরা দেশীয় অস্ত্রসস্ত্র নিয়ে পলাশ ভাই ও তার গাড়িচালক মামুনকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর জখম করেছে। মামুনের শরীরে অসংখ্য কোপ লেগেছে। পলাশ ভাইর বাসায় হামলা ঠেকাতে গিয়ে দেশীয় অস্ত্রের কোপে গুরুতর আহত হয়ে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন পলাশের ড্রাইভার মামুন। তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
Shamiur Rahman
