অভিযোগের তীর উপ-সহকারী প্রকৌশলী হেলাল উদ্দিনের দিকে
সুরক্ষিত সংসদ ভবন এলাকায় কোটি টাকার গণপূর্তের কপার বার চুরি!
সংসদ ভবনস্থ গণপূর্ত অধিদপ্তরের মেকানিক্যাল প্লান্টের (এমএমপি) ষ্টোরে ১৩৪৩ টি কপার বার মজুত ছিলো
বাংলাদেশের সবচেয়ে সুরক্ষিত স্থান জাতীয় সংসদ ভবন। উক্ত সংসদ ভবনের ষ্টোর রুম থেকে কোটি টাকা মূল্যের কপার বার চুরি হয়ে গেছে এমন হাস্যকর গল্প ফাঁদছে গণপূর্ত অধিদপ্তর।
সংসদ ভবনস্থ গণপূর্ত অধিদপ্তরের মেকানিক্যাল প্লান্টের (এমএমপি) ষ্টোরে ১৩৪৩ টি কপার বার মজুত ছিলো। বিগত সরকারের আমলে আমব্রেলা প্রজেক্টের অধীনে জাতীয় সংসদ ভবনের নবম তলায় স্থাপিত বিদ্যুৎ উপকেন্দ্রটি সংস্কার করা হয়। এক সময় পুরনো বিদ্যুৎ উপকেন্দ্র থেকে এলটি এবং এইচটি প্যানেল হতে ১৪৯ টি কপার ব্যবহার করার পর ১৩৪৩ টি কপার বার জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজার নিচে মেকানিক্যাল প্লান্টের ষ্টোরে মজুতকৃত কপার বার চুরি হয়ে যায়। এই কপারগুলো গণপূর্ত অধিদপ্তরের উপ সহকারী প্রকৌশলীর ত্বত্তাবধানে রাখা হয়েছিলো।
অতি সম্প্রতি অব্যবহৃত এবং পুরাতন বার সহ অকেজো ও অন্যান্য জিনিসপত্র বিক্রি করার জন্য সার্ভে রিপোর্ট করার সময় মূল্যবান কপার বারের মধ্যে অল্প কয়েকটি বার পাওয়া যায়। চুরি হওয়া বারের বাজার মূল্য কোটি টাকার উপরে। এই নিয়ে গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী, ত্বত্তাবধায়ক প্রকৌশলী এবং নির্বাহী প্রকৌশলীর দপ্তর এখন তোলপাড়।
বিষয়টি জানুয়ারী মাসের শেষের দিকের হলেও এখন পর্যন্ত এই নিয়ে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। তথ্যসূত্র বলছে উপ-সহকারী প্রকৌশলী হেলাল উদ্দিনের যোগসাজস ছাড়া উক্ত মালামাল চুরি হওয়ার মত কোন সুযোগ নেই।
২৪ জানুয়ারী উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী আসিফ রহমান নাহিদ বিষয়টি উর্দ্ধতন কতৃপক্ষের নিকট লিখিত একটি পত্র পাঠান। এই পত্রে তিনি কপার বারগুলো হারিয়ে যাওয়া হিসেবে উল্লেখ করেন। বিষয়টি নিয়ে নির্বাহী প্রকৌশলীর দপ্তর এবং তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মাহাবুবুল আলম চৌধুরীর কালক্ষেপণ করতে থাকলে এই বিষয়টি আরও প্রশ্নবিদ্ধ করে তুলে। নিরাপত্তারক্ষী বাহিনীর নিরাপত্তার চাদরে ঢাকা সংসদ ভবনের মতো সুরক্ষিত স্থান থেকে চুরি হওয়ার কোনও প্রশ্নই উঠে না, এমন বক্তব্য একাধিক কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের। শুধু তাই নয়, এমএমপি রুম সম্পূর্ন সিসি ক্যামেরার আওতায়। কিন্তু কিছুদিন যাবত নাকি সিসি ক্যামেরা নষ্ট, এমন বক্তব্য দিয়েছে নির্বাহী প্রকৌশলী হেলাল উদ্দিন।
চোর চুরি করার সময় কিছু না কিছু লক্ষণ রেখে যায় ঠিক তেমনি হেলাল উদ্দিনও ঘটনা ঘটে যাওয়ার পর বিনা টেন্ডারে সিসিটিভি পুনঃস্থাপন করেন। এটাও পরিকল্পিত চুরির প্রাথমিক নমুনা। এরই মধ্যে কপার বারগুলো অন্যত্র সরিয়ে ফেলা হয়েছে; তথ্যসূত্রও তাই বলছে।
সংসদ ভবন এলাকায় বাইরের কেউ বিনা অনুমতিতে অথবা অনুমোদিত ব্যক্তি ছাড়া অন্য কারও প্রবেশ করার কোন সুযোগ নাই। তাহলে চোর কিভাবে ঢুকলো? অন্যদিকে, হেলাল উদ্দিনের বক্তব্য যদি সঠিক হয় তাহলে কি বলা যায় সংসদ ভবন এলাকা অরক্ষিত?
এই ব্যাপারে বক্তব্যের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মাহবুবুল হক চৌধুরীকে ফোন দিলে তিনি দ্য ফিন্যান্স টুডেকে বলেন, আপনারা যা জানেন আমিও তাই জানি। নির্বাহী প্রকৌশলী ইএম-৭ আনোয়ার হোসেন কোন বক্তব্য দেননি। তিনি দায়িত্বপ্রাপ্ত উপ-সহকারী প্রকৌশলী হেলাল উদ্দিনের সাথে কথা বলতে বলেন।
এদিকে, উপ-সহকারী প্রকৌশলী হেলাল উদ্দিনকে একাধিকবার ফোন দিলেও তিনি ফোন ধরেননি। বক্তব্য চেয়ে খুদেবার্তা পাঠালেও তিনি কোন বক্তব্য দেননি।
Shamiur Rahman

Please share your comment: