পৃথিবীর মাইক্রোফাইন্যান্স ব্যাংকগুলো দরিদ্রদের সাহায্যের বদলে ঋণের বোঝা বাড়াচ্ছে
বিশেষজ্ঞরা সতর্কবাণী উচ্চারণ করে বলছেন, ক্ষুদ্রঋণ শুধু ঋণ বোঝা বাড়ালে দারিদ্র্য কমানো কঠিন
পাকিস্তান, আফগানিস্তান ও স্পেনে ক্ষুদ্রঋণ ব্যাংকগুলো আয়ের সুযোগ তৈরি করলেও, উচ্চ সুদ এবং সীমিত কার্যক্রম দরিদ্রদের আর্থিক চাপ বাড়াচ্ছে।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ক্ষুদ্রঋণ ব্যাংকগুলোকে দরিদ্রদের জন্য ‘সমাধান’ হিসেবে প্রচার করা হয়। তবে পাকিস্তান, আফগানিস্তান ও স্পেনে পরিচালিত কার্যক্রম দেখাচ্ছে, অনেক ঋণগ্রহীতা আয়ের সুযোগ পেলেও উচ্চ সুদ, সীমিত সহায়তা এবং প্রশাসনিক দুর্বলতার কারণে আরও আর্থিক চাপের মধ্যে পড়ছে।
বিশেষজ্ঞরা সতর্কবাণী উচ্চারণ করে বলছেন, ক্ষুদ্রঋণ শুধু ঋণ বোঝা বাড়ালে দারিদ্র্য কমানো কঠিন।
পাকিস্তান
খুশালি মাইক্রোফাইন্যান্স ব্যাংক বহু দরিদ্রকে ক্ষুদ্র ঋণ দিয়েছে জীবিকা চালানোর জন্য। তবে উচ্চ সুদ এবং অকার্যকর ব্যবসার কারণে অনেক পরিবার ঋণের বোঝা সহ্য করতে পারছে না। আঞ্চলিক পার্থক্যও সমস্যার মাত্রা বাড়াচ্ছে।
আফগানিস্তান
ফার্স্ট মাইক্রোফাইন্যান্স ব্যাংক স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও ক্ষুদ্র ব্যবসার জন্য ঋণ দিয়ে সাহায্য করছে। কিন্তু রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা এবং সীমিত প্রশাসনিক সক্ষমতার কারণে অনেক দরিদ্র এখনও কার্যকর সহায়তা পাচ্ছে না।
স্পেন
মাইক্রো ব্যাংক (CaixaBank) “নিজের ব্যবসা / স্বকর্ম” এবং ক্ষুদ্র ব্যবসার জন্য ঋণ দেয়। তবে উন্নত অর্থনীতির প্রেক্ষাপটে দরিদ্রদের জন্য সুবিধা সীমিত, এবং আয়ের বৃদ্ধিও সব সময় সমান নয়। স্পেনের
ঋণ গ্রহীতাদের আয় বাড়ালেও ঋণের বোঝা এখন দেশটির প্রধান উদ্বেগ।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ক্ষুদ্রঋণ যদি সঠিক সমন্বয় ও টেকসই নীতি ছাড়া বিতরণ করা হয়, তবে এটি দারিদ্র্য কমানোর বদলে ঋণের বোঝা বাড়িয়ে দিচ্ছে।
মাইক্রোফাইন্যান্স ব্যাংকগুলো আয়ের সুযোগ তৈরি করলেও, ঋণগ্রহীতাদের ওপর ঋণের চাপ ও প্রশাসনিক সীমাবদ্ধতা বড় চ্যালেঞ্জ। আন্তর্জাতিক আর্থিক নীতি এবং কর্পোরেট স্বার্থের প্রভাবের কারণে দরিদ্রদের জন্য গড়ে ওঠা কাঠামো এখন ব্যাংকিং নিয়ন্ত্রিত ঝুঁকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বাংলাদেশে যদি মাইক্রোফাইন্যান্স ব্যাংক প্রতিষ্ঠিত হয়, তবে তাতে ঋণের সুদ বৃদ্ধির ঝুঁকি, ত্রুটিপূর্ণ প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা এবং সীমিত সামাজিক সাপোর্টের কারণে দরিদ্র জনগোষ্ঠী আরও ঋণ চাপের মধ্যে পড়তে পারে। এতে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের কার্যকর সহায়তা সীমিত হয়ে দারিদ্র্য কমানোর প্রকৃত লক্ষ্য বিপন্ন হওয়ার সম্ভাবনা থাকবে।
মুস্তাফা কামাল আকন্দ একজন পেশাদার উন্নয়নকর্মী ও নীতি বিশ্লেষক, বাংলাদেশের এনজিও ও সামাজিক উন্নয়ন খাতে ২৭ বছরের বেশি অভিজ্ঞতার অধিকারী।
Shamiur Rahman
