বৈশাখী উৎসব
দেড় কিলোমিটার জুড়ে বৈশাখী আল্পনা: বর্ণিল সাজে চট্টগ্রাম
রবিবার রাতে চট্রগ্রাম সার্কিট হাউসে আল্পনা অঙ্কনের এই ব্যতিক্রমী আয়োজনের উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা
চট্টগ্রামে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে পহেলা বৈশাখ বরণে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। নগরীর কাজীর দেউড়ি সার্কিট হাউস থেকে ডিসি হিল পর্যন্ত প্রায় দেড় কিলোমিটার সড়কজুড়ে আঁকা হয়েছে বৈশাখী আল্পনা, যা এবারের উৎসবে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
রবিবার রাতে চট্রগ্রাম সার্কিট হাউসে আল্পনা অঙ্কনের এই ব্যতিক্রমী আয়োজনের উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, জেলা শিল্পকলা একাডেমি ও শিশু একাডেমির শিক্ষার্থী ও শিল্পীরা এই কার্যক্রমে অংশ নেন। তারা বিভিন্ন দলে বিভক্ত হয়ে লতাপাতা, ফুল, পাখি ও লোকজ মোটিফের মাধ্যমে বাঙালির ঐতিহ্য তুলে ধরেন।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, বিভিন্ন রঙে সড়ক সাজানোর মধ্য দিয়ে সমাজের সব ধর্ম-বর্ণের মানুষের ঐক্যের বার্তা তুলে ধরা হচ্ছে। আমরা আমাদের জীবনকেও এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকেও সেভাবে রাঙিয়ে তুলতে চাই।
তিনি বলেন, আমাদের এই সমাজে হিন্দু, মুসলিম, খ্রিষ্টান, বৌদ্ধসহ যারা বসবাস করে, তাদের প্রত্যেকের আলাদা রং থাকলেও উৎসব পালনের ক্ষেত্রে আমরা একতাবদ্ধ। আমরা একত্রে মিলিত হয়ে আমাদের উৎসব আয়োজন করি।
তিনি আরও বলেন, দেশের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে এই ধরনের আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ।
এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (অতিরিক্ত ডিআইজি পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত) হোসেন মোহাম্মদ কবির ভূঁইয়া, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো. শরীফ উদ্দিন ও মো. সাইদুজ্জামান পাঠান। এই অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসকের একমাত্র সন্তানও উপস্থিত ছিলেন এবং আলপনা অঙ্কনে অংশগ্রহণ করেন।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম জানান, তার কন্যা চিত্রাঙ্কনে দক্ষ এবং ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে স্বীকৃতি অর্জন করেছে। রাস্তায় আলপনা অঙ্কনের আয়োজনের কথা শুনে সে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নিতে চলে আসে।
পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে নগরীর সিআরবি শিরীষতলা ও ডিসি হিলে পৃথক বর্ষবরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। এতে অংশ নেবেন বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনের শিল্পীরা।
এই বিষয়ে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম মহানগর জাসাসের সদস্য সচিব মামুনুর রশিদ শিপন বলেন, পহেলা বৈশাখ ঘিরে নানা প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। আমাদের বাংলার ঐতিহ্য তুলে ধরা আমাদের লক্ষ্য। আমরা চাই সবাই এই উৎসবে সামিল হোক।
তিনি আরও বলেন, ফ্যাসিস্ট সরকারের শাসনামলে বিদেশী সংস্কৃতির যে আগ্রাসন ছিল তা বন্ধ করা দেশীয় শিল্পীদের দাবি। এই দাবির সঙ্গে ঐক্যমত পোষণ করে আমরা সেটি বাস্তবায়ন করার মাধ্যমে দেশীয় সংস্কৃতিকে বিশ্বের বুকে উপস্থাপন করতে চাই।
চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার হোসেন মোহাম্মদ কবির ভূঁইয়া জানান, বৈশাখ উদযাপন ঘিরে সমন্বিত নিরাপত্তা পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। ক্রাইম ডিভিশন, ডিবি, কাউন্টার টেররিজম ইউনিট ও সিটি স্পেশাল ব্রাঞ্চ মাঠে কাজ করবে।
এদিকে, অনুষ্ঠান নির্বিঘ্ন করতে ডিসি হিল ও সিআরবি এলাকায় বিশেষ যান চলাচল নির্দেশনা জারি করেছে পুলিশ। নির্দিষ্ট কিছু পয়েন্টে রোড ব্লক বসিয়ে যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হবে। মঙ্গলবার সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত এই ব্যবস্থা কার্যকর থাকবে।
Shamiur Rahman

Please share your comment: