বিয়ের সাড়ে ৩ মাসেই নিভে গেল সৌম্য-অন্তীর প্রাণ

Published: 27 March 2026 20:03

একসঙ্গে সংসার শুরু করা এই যুগল আজ বিদায়ও নিলেন একসঙ্গে। পদ্মার জল তাদের আলাদা করতে পারেনি, কবরেও তারা এখন পাশাপাশি

বিয়ের বছর না ঘুরতেই সংসারের রঙিন সব স্বপ্ন বিলীন হলো পদ্মার অতল গহ্বরে। রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ঘাটে বাস দুর্ঘটনায় প্রাণ হারানো নবদম্পতি কাজী সাঈফ আহমেদ সৌম্য (৩০) ও জহুরা অন্তি (২৭)-কে বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) অশ্রুসিক্ত নয়নে চিরবিদায় জানিয়েছে রাজবাড়ীবাসী।

দুপুরে শহরের শহীদ খুশি রেলওয়ে মাঠে জানাজা শেষে পৌর কবরস্থানে তাদের পাশাপাশি দুটি কবরে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয়।

সব স্বপ্ন বিলীন হলো পদ্মার অতল গহ্বরে

গতকাল বুধবার বিকেলে ঈদের ছুটি শেষে কর্মস্থলে ফেরার উদ্দেশ্যে রাজবাড়ীর বড়পুল এলাকা থেকে ‘সৌহার্দ্য পরিবহন’-এর একটি বাসে ওঠেন সৌম্য ও অন্তি। বিকেল সোয়া ৫টার দিকে দৌলতদিয়া ৩ নম্বর ফেরিঘাটে বাসটি ফেরিতে ওঠার জন্য পন্টুনে অপেক্ষা করছিল। এ সময় হঠাৎ বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পন্টুন থেকে গভীর পদ্মায় তলিয়ে যায়। নিখোঁজদের সন্ধানে ফায়ার সার্ভিস ও নৌ-পুলিশের দীর্ঘ সাত ঘণ্টার রুদ্ধশ্বাস উদ্ধার অভিযান শেষে রাত ১২টার দিকে উদ্ধারকারী জাহাজ ‘হামজা’ বাসটিকে পানি থেকে টেনে তুললে ভেতরে ওই দম্পতির নিথর দেহ পাওয়া যায়।

বৃহস্পতিবার দুপুর আড়াইটার দিকে রাজবাড়ীর শহীদ খুশি রেলওয়ে মাঠে এই দম্পতির জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় মানুষের ঢল নামে এবং স্বজনদের আহাজারিতে আকাশ-বাতাস ভারী হয়ে ওঠে।

মৃত সৌম্য রাজবাড়ী পৌরসভার সজ্জনকান্দা গ্রামের কাজী মুকুলের একমাত্র ছেলে এবং অন্তি একই এলাকার মৃত ডা. আব্দুল আলীমের মেয়ে। অন্তি ছিলেন একজন মেধাবী মেডিকেল শিক্ষার্থী। জানাজা শেষে রাজবাড়ী পৌরসভার নতুন বাজার কবরস্থানে এই দম্পতিকে পাশাপাশি দাফন করা হয়।

‘আমি কী দোষ করেছিলাম আল্লাহ, কেন আমার ছেলেকে কেড়ে নিলে?’

নিহত সৌম্যের বড় চাচা কাজী গোলাম আহমেদ কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, তার সেজো ভাইয়ের একমাত্র ছেলে ও পুত্রবধূকে তিনি সন্তানের মতো লালন-পালন করেছেন। তিনি জানান, সৌম্যকে ছোটবেলা থেকেই তিনি বড় করেছেন, লেখাপড়া করিয়েছেন এবং নিজের হাতে বিয়ে দিয়েছেন।

ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে আজ এই দুই সন্তানের লাশ সামনে নিয়ে তাকে জানাজা পড়তে হচ্ছে। তিনি উপস্থিত সবার কাছে দম্পতির ভুলত্রুটি ক্ষমা করে দিয়ে তাদের আত্মার মাগফিরাতের জন্য দোয়া চান।

একসঙ্গে পথচলা শুরু, বিদায়ও হলো পাশাপাশি কবরে

এক শোকাতুর প্রতিবেশী আক্ষেপ করে বলছিলেন, একসঙ্গে সংসার শুরু করা এই যুগল আজ বিদায়ও নিলেন একসঙ্গে। পদ্মার জল তাদের আলাদা করতে পারেনি, কবরেও তারা এখন পাশাপাশি।

প্রিয়জনদের হারানোর এই শোক যেন পাথর হয়ে জমেছে রাজবাড়ীর মানুষের মনে। পদ্মার করাল গ্রাস থেকে উদ্ধার হওয়া এই দুই প্রাণ এখন শুধু স্মৃতি হয়েই বেঁচে থাকবে তাদের ভালোবাসার মানুষদের হৃদয়ে

Shamiur Rahman

Please share your comment:

Related