আব্দুস সালাম পিন্টুর সাবেক এপিএসকে নিয়ে আবেগঘন পোষ্ট পিন্টু-কন্যার
অনেকেই মাসুদ তালুকদারের প্রতি আব্দুস সালাম পিন্টুর কন্যা সাফওয়াত বিনতে সালামের এমন বিনম্র শ্রদ্ধা ও সম্মান প্রদর্শনের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন
বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও সাবেক শিক্ষা উপমন্ত্রী আবদুস সালাম পিন্টুর সাবেক এপিএস মাসুদ তালুকদারের সততা, নিষ্ঠা, দায়িত্ববোধ ও একাগ্রতা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক আবেগঘন পোষ্ট করেছেন পিন্টু-কন্যা সাফওয়াত বিনতে সালাম।
সম্প্রতি, নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক একাউন্টে এক পোষ্টে তিনি লিখেন, "আজ আমি এই লোকটাকে নিয়ে কিছু না বললে সত্যিই আমার অন্যায় হবে। তার নাম মাসুদ তালুকদার। আমরা সবাই তাকে মাসুদ আঙ্কেল বলেই ডাকি। ছোটবেলা থেকেই আঙ্কেলকে দেখেছি আব্বুর পাশে পাশে থাকতে। আব্বু যখন মন্ত্রী ছিলেন, তখন থেকেই তিনি আব্বুর এপিএস হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন।"
সাফওয়াত লিখেছেন, "তার আগে অন্য একজন পিএস ছিলেন। শুনেছিলাম তিনি অনেক দুর্নীতি করে দেশ ছেড়ে চলে গেছেন। কিন্তু আব্বুকে যখন ধরে নিয়ে যাওয়া হলো, সেই কঠিন সময়েও এই মাসুদ আঙ্কেলই আব্বুর পাশে অটল ছিলেন।"
তিনি আরও লিখেন, "মাসুদ আংকেল নামমাত্র বেতনে চাকরি করেছেন। আমাদের যতটুকু সম্ভব হয়েছে, নিজের সামর্থ্যের ভেতরে থেকে দেখাশোনা করেছেন। আম্মু যখন বাইরে যেতেন, আমাদের অন্যতম অভিভাবক ছিলেন এই মানুষটি। ডিম ভাজি, ডাল আর ভাত - এই এক খাবারই কতবার যে খেয়েছি তার হাতের! মাঝে মাঝে আলু ভর্তাও থাকত। হাজার হাজার মেসেজ দিয়েছি মনে হয়, “আমাকে সকাল ৭টায় ডেকে দিয়েন” বলে। কখনো বিরক্ত হননি।
সাফওয়াত ঐ পোষ্টে লিখেছেন, "কোভিডের পর মাসুদ আঙ্কেল ছোট একটা ব্যবসা শুরু করেন। দুই সন্তান নিয়ে এই অল্প বেতনে তারও আর চলছিল না। তবুও আমাদের খোঁজ নেওয়া তিনি বন্ধ করেননি। জ্বর নিয়ে যখন একা বাসায় কুঁকড়ে পড়ে থাকতাম, তিনি এসে মাথায় পানি দিতেন। এই মানুষটার মুখে কোনোদিন খারাপ কথা শুনিনি। আমরা রাগ করে হয়তো উল্টো বকাঝকা করেছি, কিন্তু তিনি সবসময় চুপচাপ শুনেছেন।"
"এই লেখাটা যখন লিখছি, তখনও তিনি বাইরে থেকে আব্বুর জন্য ভাত এনে প্লেটে সাজিয়ে খেতে দিচ্ছেন। তার এই বিশ্বস্ততা আর একাগ্রতায় আমি মুগ্ধ।"
"সম্প্রতি গ্রামে গিয়ে দেখলাম, প্রায় সব বাড়িই পাকা দালান হয়ে গেছে। শুধু আব্বুর সামনে যে টিনের ঘরটা, আর মাসুদ আঙ্কেলের ঘর, দুটোই প্রায় একই রকম, জীর্ণ আর সাদামাটা। এত বছর সেবা করার পরও নিজের জন্য তেমন কিছু গড়ে তোলেননি।"
"মন থেকে তার নেক হায়াত ও সুন্দর জীবনের জন্য সবসময় দোয়া করি। যে মানুষটি ১৭ বছর আমাদের ছেড়ে যাননি, আল্লাহ যেন কঠিন সময়ে তাকেও কখনো না ছাড়েন।"
"তবে এর মানে এই না যে সামনে কোনো অন্যায় করলে তাকে ছেড়ে দেওয়া হবে। অন্যায় আপনজন করলেও তা অন্যায়ই। কিন্তু তাকে ধন্যবাদ না জানানোটা আমার জন্য আরও বড় অন্যায় হতো।"
"আল্লাহ আপনাকে অনেক ভালো রাখুন, আঙ্কেল। আপনার স্যারের মতো আপনিও সৎ ও সম্মানের জীবন পান - এই দোয়াই রইল।"
ইতিমধ্যে, এই পোষ্টটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই সর্বমহলে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। অনেকেই মাসুদ তালুকদারের প্রতি আব্দুস সালাম পিন্টুর কন্যা সাফওয়াত বিনতে সালামের এমন বিনম্র শ্রদ্ধা ও সম্মান প্রদর্শনের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন।
এই পোষ্টের জবাবে মাসুদ তালুকদারের খালাতো ভাই আতিকুর রহমান লিখেন, "আমি নিজ দায়িত্বে পোল্যান্ড এর ওয়ার্ক পারমিট বের করে মাসুদ ভাইকে পোল্যান্ড চলে আসতে বলেছিলাম। এর জবাবে, কিছুদিন পর উনি বললেন আমি পিন্টু স্যারকে রেখে কোথাও যাবো না।
তিনি আরও লিখেন, এর প্রতিউত্তরে বলেছিলাম উনার তো মৃত্যুদন্ডের রায় হয়ে গেছে, যেকোনো সময় কার্যকর হয়ে যেতে পারে। আপনি চলে আসেন। তবে ওপাশ থেকে মাসুদ ভাইর আর কোনও জবাব পাইনি।"
পরিশেষে আতিক আবেগঘন ভাষায় লিখেছেন, "মাসুদ ভাই ইউরোপকে তুচ্ছ মনে করে তার স্যারের জন্য বাংলাদেশেই রয়ে গেছেন। তাকে কোনোভাবেই বিদেশে নিতে পারিনি। উনার দায়িত্ববোধ সত্যিই আকাশচুম্বী।"
Shamiur Rahman
