আওয়ামী পরিবারের লক্ষী মেয়ে ও যুবলীগ নেতার বোন পরিচয়ে
জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নতুন সচিব ড. নাজনীন কাউসার চৌধুরী
নাজনীন কাউসারের সচিব পদায়ন নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, তাহলে কি বন্দর এলাকার উপদেষ্টাদের আশীর্বাদে চট্টগ্রাম কোটায় সচিব হলেন আওয়ামী পরিবারের লক্ষী মেয়ে ড. নাজনীন কাউসার চৌধুরী
আওয়ামী লীগের সাবেক সমাজ কল্যাণ মন্ত্রী নুরুজ্জামান আহমেদ তাকে ভালো জায়গায় পদায়নের জন্য ডিও লেটার দিয়েছিলেন। ২০২২ সালের ওই ডিও লেটারে উল্লেখ ছিলো ড. নাজনীন কাউসার চৌধুরীর বাবা বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে রাজনীতি করেছেন। তার ভাই মনোয়ার-উল-আলম চৌধুরী নোবেল চট্টগ্রাম মহানগর যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী। তার আপন খালা মিস জোবাইরা নার্গিস খান মহানগর আওয়ামী লীগের মহিলা সম্পাদিকা।
এবার নাজনীন কাউসারের সচিব পদায়ন নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, তাহলে কি বন্দর এলাকার উপদেষ্টাদের আশীর্বাদে চট্টগ্রাম কোটায় সচিব হলেন আওয়ামী পরিবারের লক্ষী মেয়ে ড. নাজনীন কাউসার চৌধুরী।
তার প্রমোশন নিয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে আলোচনা-সমালোচনা হচ্ছে। বলা হচ্ছে, নাজনীন কাউসার পতিত সরকার আমলে আওয়ামী পরিবারের পরিচয় দিয়ে সাবেক সমাজকল্যাণ মন্ত্রী নুরুজ্জামান আহমেদ এর হস্তক্ষেপে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে অতিরিক্ত সচিব হিসেবে পদায়ন হয়েছিলেন।
কথিত আছে, সাবেক জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ নাজনীন কাউসারকে নিজ কক্ষে ডেকে নিয়ে একাধিক মন্ত্রণালয় চয়েস করতে বলেন। নাজনীন বাণিজ্য মন্ত্রণালয় চয়েস করেন। পরবর্তীতে তাকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে অতিরিক্ত সচিব হিসেবে পদায়ন করা হয় দুই মন্ত্রীর হস্তক্ষেপে। সেখানে কর্মরত থাকা অবস্থায় সব ধরনের সুযোগ সুবিধা ভোগ করেছেন নাজনীন কাউসার চৌধুরী। সুবিধা দিয়েছেন আওয়ামী দোসরদের।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, গত ২৬ আগস্ট ড.নাজনীন কাউসার চৌধুরীকে (৬৩৫৭) অতিরিক্ত সচিব বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে নির্বাহী চেয়ারম্যান (সচিব) পদে জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ-এ পদায়ন করা হয়। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের মোহাম্মদ রফিকুল হক (উপ-সচিব) এর স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে ড. নাজনীন কাউসার চৌধুরীকে সচিব পদে পদোন্নতি দেয়া হয়।
-2025-08-30-13-30-59.jpeg)
সাবেক সমাজ কল্যাণ মন্ত্রী নুরুজ্জামান আহমেদ এর ডিও লেটারটি হুবহু তুলে ধরা হলো
সাবেক সমাজ কল্যাণ মন্ত্রী নুরুজ্জামান আহমেদ সাবেক জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ আহমেদকে ডিও লেটারে লিখে ছিলেন, আমার সালাম ও শুভেচ্ছা নিবেন। আপনার সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করে অবহিত করছি যে, ড. নাজনীন কাউসার চৌধুরী, যুগ্মসচিব হিডিি নম্বর- ৬৩৫৭), ব্যক্তিগতভাবে আমার পরিচিত। তিনি বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারের ১৫শ (পঞ্চদশ একজন কর্মকর্তা। বর্তমানে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বাংলাদেশ চা বোর্ড, প্রধান কার্যালয়, চারলিমা তিন্নি সদস্য (অর্থ ও বাণিজ্য) পদে কর্মরত রয়েছেন। কর্মজীবনে তিনি মেধা ও যোগ্যতার যথাযথ ব্যবহারের মাধ্যমে অত্যন্ত সততা, নিষ্ঠা, আন্তরিকতা, দক্ষতা এবং সুনামের সাথে সরকারি দায়িত্ব পালন করে আসছেন। উল্লেখ্য, ড. নাজনীন ইতোপূর্বে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদনক্রমে বাংলাদেশ দূতাবাস, ব্রাসেলস, বেলজিয়ামেও কাজ করেছেন।
পারিবারিকভাবে তিনি বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক আদর্শের অনুসারী। ড. নাজনীনের বাবা ভাষাসৈনিক, রাজনীতিবিদ, সমাজসেবক ও শিক্ষানুরাগী মরহুম বদিউল আলম চৌধুরী ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয় অংশগ্রহণ করেন। তিনি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দির সাথে একসাথে রাজনীতি করেছেন। এছাড়া, তাঁর আপন ভাই মনোয়ার-উল আলম চৌধুরী নোবেল চট্টগ্রাম মহানগর যুবলীগের 'সাধারণ সম্পাদক' পদপ্রার্থী। তাঁর আপন খালা মিস জোবাইরা নার্গিস খান চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামীলীগের মহিলা বিষয়ক সম্পাদিকা।
ড. নাজনীন প্রশাসনের একজন মেধাবী কর্মকর্তা। তিনি অস্ট্রেলিয়ান সরকারের বৃত্তি নিয়ে অস্ট্রেলিয়ান ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি হতে অর্থনীতিতে ৩ (তিন)টি ডিগ্রী (পিএইচডি, এমএস এবং ডিপ্লোমা) অর্জন করেন। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় হতে তিনি অর্থনীতিতে ১ম শ্রেণিতে ১ম স্থান অর্জন করেন। ড. নাজনীনকে তাঁর পড়াশোনার ব্যাকগ্রাউন্ড বিবেচনা করে 'অর্থ বিভাগ' অথবা 'অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ' অথবা 'বাণিজ্য মন্ত্রণালয়' অথবা 'অন্য যে কোন মন্ত্রণালয়'এ পদায়ন করা হলে তাঁর কর্মস্পৃহা আরও বৃদ্ধি পাবে এবং তিনি অধিকতর নিষ্ঠা ও একাগ্রতাসহ স্বীয় দায়িত্ব পালন করবেন বলে আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি।
এমতাবস্থায়, ড. নাজনীন কাউসার চৌধুরী, যুগ্মসচিব (পরিচিতি নম্বর- ৬৩৫৭), বিসিএস (প্রশাসন)কে 'অর্থ বিভাগ' অথবা 'অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ' অথবা 'বাণিজ্য মন্ত্রণালয়' অথবা 'অন্য যে কোন মন্ত্রণালয়'এ যুগ্মসচিব পদে পদায়নের বিষয়ে আপনার ব্যক্তিগত সুদৃষ্টি ও আন্তরিক সহযোগিতা একান্তভাবে কামনা করছি।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, অতিরিক্ত সচিব ড.নাজনীন কাউসার চৌধুরী আওয়ামী পরিবারের পরিচয় বহন করে দাপুটে জীবন যাপন করতেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পালানোর পর ৮ আগস্ট অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতায় আসে। খুব কম সময়ের মধ্যে সরকার পরিবর্তনের সাথে সাথে নাজনীন কাউসার চৌধুরী লবিং করে খোলস পালটিয়ে ফেলেন। তাই তার ভাগ্য পরিবর্তনে সচিব পদে পদোন্নতি পেতে বেগ পাননি।
নাম প্রকাশ না করার শর্ত দিয়ে একজন অতিরিক্ত সচিব এই প্রতিবেদককে বলেন, এখনো আওয়ামী দোসররা সব জায়গায় পজিশনে আছেন। তাদেরকে চিহ্নিত করার দায়িত্ব সরকারের। কিন্তু একটি মহল টাকার বিনিময়ে আগের মতোই ঘুষ বাণিজ্যে লিপ্ত। যাদের টাকা আছে তারাই সব ধরনের সুবিধা ভোগ করছেন। মূলত আমলাদের মধ্যে কোন পরিবর্তন আসেনি।
এই বিষয়ে জানতে চেয়ে জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ-এ যোগাযোগ করা হলে ড. নাজনীন কাউসার চৌধুরীকে পাওয়া যায়নি।
