কাস্টমসের যুগ্ম কমিশনার মাজেদুল হকের বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও পর্নোগ্রাফি আইনে মামলা*
দফায় দফায় নির্যাতনের শিকার হয়ে বর্তমানে পারুলের পুরো পরিবার ঘরবাড়ি ছেড়ে অন্যত্র পালিয়ে বেড়াচ্ছে
দিনাজপুরের মেয়ে পারুল নাহারের সাথে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে পরিচয় হয় কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের যুগ্ম কমিশনার মাজেদুল হকের। সেই পরিচয় থেকে গড়ে ওঠে ঘনিষ্ঠতা। অভিযোগ উঠেছে, বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে পারুলকে সাথে নিয়ে দিনাজপুর, রংপুর, ঢাকা ও খুলনার বিভিন্ন স্থানে ঘুরে বেড়ান মাজেদুল হক। বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে একাধিকবার শারীরিক সম্পর্কেও জড়ান। কিন্তু বিবাহবহির্ভূত এই অনৈতিক সম্পর্কের মাধ্যমে তাকে সর্বস্বান্ত করার অভিযোগও উঠেছে এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে।
মাজেদুল হক বর্তমানে বরিশালের কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটে যুগ্ম কমিশনার হিসেবে কর্মরত। পারুল নাহার তাকে বিয়ের মাধ্যমে স্ত্রীর মর্যাদা দেওয়ার দাবি জানালে শুরু হয় টালবাহানা। এক পর্যায়ে পারুলের পরিবারকে নানাভাবে হয়রানি ও নির্মম নির্যাতন শুরু করা হয় বলে জানা গেছে।
নিরুপায় হয়ে পারুল নাহার দিনাজপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল আদালতে মাজেদুল হকের বিরুদ্ধে ধর্ষণ, নারী নির্যাতন, প্রাণনাশ, ব্ল্যাকমেইল এবং পর্নোগ্রাফি আইনে মামলা দায়ের করেছেন। (মামলা নং: ২৩/৬৮৭, তারিখ: ২০/১১/২৫। ধারা: ২০০০ সালের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন (সংশোধিত/২০২৫) আইনের ৯(১) এবং ২০১২ সালের পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনের ৮(১)/৮(২))।
অভিযোগ রয়েছে যে, অর্থ ও ক্ষমতার প্রভাবে পারুল নাহারের আর্তনাদ ঢাকা পড়ে যাচ্ছে। মাজেদুল হকের স্ত্রীও একজন ২৮তম বিসিএস ক্যাডার কর্মকর্তা। এই দম্পতির অবৈধ অর্থ ও ক্ষমতার দাপটের কাছে অসহায় হয়ে পড়েছে পারুল নাহারের পরিবার। এমনকি দফায় দফায় নির্যাতনের শিকার হয়ে বর্তমানে পুরো পরিবারটি পালিয়ে বেড়াচ্ছে।
‘ফিন্যান্স টুডে’-র দীর্ঘ অনুসন্ধানে মাজেদুল হকের চারিত্রিক স্খলনের চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। খুলনায় কর্মরত থাকাকালীন তিনি ২০২৪ সালের ১৪ই এপ্রিল থেকে টানা ৯ দিন এবং ২০২৫ সালের ২ জুলাই থেকে ৩/৪ দিন সরকারি বাসভবনে পারুল নাহারকে নিয়ে অবস্থান করেছিলেন বলে প্রমাণ পাওয়া গেছে।
রংপুর, দিনাজপুর, ঢাকা ও খুলনার বিভিন্ন স্থানে তাদের অবস্থানের সচিত্র প্রতিবেদন ও ভিডিও ফুটেজসহ মাজেদুল হকের কর্মকাণ্ড নিয়ে ধারাবাহিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হতে যাচ্ছে। বিস্তারিত জানতে চোখ রাখুন...।
Shamiur Rahman

Please share your comment: