ডাকসু সদস্য রাফিয়ার সাথে থাকা এই বিদেশি নাগরিক কে?
যেখানে একজন ডাকসু প্রার্থীর একমাত্র কাজ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে জবাবদিহির মধ্যে রাখা, সেখানে রাফিয়া এখন কেন এমন আচরণ করছেন যা দেখে স্পষ্টত সবাই মনে করছেন যে তিনি আইনের উর্ধ্বে ?
সম্প্রতি, ডাকসু সদস্য রাফিয়াকে এক বিদেশি নাগরিকের সঙ্গে দেখা যাওয়া সত্যিই চিন্তার আর ভয়ের বিষয়। কিন্তু কে এই ব্যক্তি?
যেখানে একজন ডাকসু প্রার্থীর একমাত্র কাজ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে জবাবদিহির মধ্যে রাখা, সেখানে রাফিয়া এখন কেন এমন আচরণ করছেন যা দেখে স্পষ্টত সবাই মনে করছেন যে তিনি আইনের উর্ধ্বে?
জুলাইয়ের তথাকথিত বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনের এক বছরেরও বেশি হয়ে গেছে। তারপর থেকে বাংলাদেশের মানুষ একের পর এক আন্দোলন দেখেছে—সবকিছুতেই তারা হতাশ হয়ে গেছে। এখন বাংলাদেশের মানুষ শুধু চায় এই দেশে শান্তি ফিরুক।
তাহলে কেন রাফিয়া এবং অন্য তথাকথিত সাধারণ শিক্ষার্থীরা বাংলাদেশে পরিকল্পিতভাবে বিশৃঙ্খলা তৈরির এই সাজানো প্ল্যানে অংশ নিচ্ছেন? এই বিষয়ে সেই ভিনদেশী লোকটিই শেষ পর্যন্ত কিছু ইঙ্গিত দিয়েছেন।
সেপ্টেম্বরের তেরো তারিখে রাফিয়া - জর্জিও জ্যাকসনের সঙ্গে একটি ছবি পোস্ট করেছিলেন। এই জর্জিও হচ্ছেন চিলির ২০১১ সালের ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম প্রধান আন্দোলনকারী।
ছাত্র আন্দোলনের চার বছর পর তিনি "রেভোলুসিয়ন ডেমোক্রাটিকা" নামের একটি রাজনৈতিক দল গড়ে তোলেন। আর তখনই তিনি স্বীকার করেন যে ছাত্র আন্দোলনে তিনিই নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। আর সেই আন্দোলনের অর্থায়ন করেছিল ওপেন সোসাইটি ফাউন্ডেশন (ওএসএফ)। ওএসএফ-এর অর্থ জোগান দেন বিলিয়নিয়ার জর্জ সোরোস।
জর্জ সোরোসের বিরুদ্ধে বহুদিন ধরেই অভিযোগ আছে যে তিনি নিজের এমন কিছু স্বার্থে বিভিন্ন দেশে আন্দোলনকারী ও কিছু সিভিল সোসাইটিকে অর্থ দেন। এই স্বার্থগুলো এমন, যা টিকে থাকে লাগাতার আন্দোলন আর রাজনৈতিক অস্থিরতার ওপর।
জর্জ সোরোসের ছেলে, অ্যালেক্স সোরোস, যিনি এখন ওপেন সোসাইটি ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান। অ্যালেক্স সোরোস সম্প্রতি বাংলাদেশে এসে প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনুস এবং এনসিপির শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন।
এখন ফিরে আসি জর্জিও জ্যাকসনের কথায়, যাকে সোরোসের অর্থে আন্দোলন করতে দেখা গেছে।
কয়েক বছর পর জর্জিও জ্যাকসন চিলিতে মন্ত্রী হতে পেরেছিলেন। কিন্তু সেটা টিকেছিল মাত্র এগারো মাস। দুর্নীতির কারণে তাকে পদত্যাগ করতে হয়। জি—দুর্নীতি।
এই প্রতিবেদন প্রকাশের উদ্দেশ্য রাফিয়াকে দোষ দেওয়া জন্য নয়। বরং বাংলাদেশের মানুষকে তাদের চারপাশের বিদেশি চক্রটা বোঝানো যে, যেসব গোষ্ঠী নিজেদের এজেন্ডা বাস্তবায়নের জন্য বাংলাদেশের তরুণদেরকে রিক্রুট করে, প্রভাবিত করে আর ধীরে ধীরে ব্রেনওয়াশ করে।
জুলাই আন্দোলনে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ব্যাপক অংশগ্রহণ থাকলেও এর পেছনে ছিলো বিদেশি নানা শক্তির দীর্ঘদিনের ষড়যন্ত্রের একটি সফল অধ্যায়।গতবছর ডঃ ইউনুস তো নিজর মুখে স্বীকার করে বলেছিলো এটা হঠাৎ করে শুরু করা আন্দোলন নয় এটা‘মেটিকুলাস ডিজাইন’ দিয়ে তৈরি।
যার ফলাফল আমরা দেখতে পাচ্ছি শেখ হাসিনার সরকার পতনের পরই বিদেশি খেলোয়াড়রা দ্রুতই বাংলাদেশে ঢুকে পড়ে—জুলাইয়ের সেই তথাকথিত বিপ্লবীদের সামনে রেখে তারা নিজেদের এজেন্ডা বাস্তবায়ন শুরু করে।
আর সবচেয়ে দুঃখের কথা হলো - ইউএসএইড, আইআরআই, নেড এবং ওএসএফ–এর অর্থায়নে চলা এই গোষ্ঠীগুলো এখনও আমাদের দেশেই বাংলাদেশি নাগরিকের মাধ্যমে খোলাখুলিভাবে তাদের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।
অতীতের এই ভুল থেকে আমাদের আগামীতে শিক্ষা নিতে হবে। বাংলাদেশ বিরোধী বিদেশি শক্তিকে প্রতিহত করতে সকলে ঐক্যবদ্ধ হোন। মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার দায়িত্ব আমাদের সকলের।
Shamiur Rahman
