১২০০ কোটি টাকা পাচারের অভিযোগে বিজয়নগর থেকে দুজন গ্রেফতার

Published: 04 December 2019 00:12

আসামিরা পোলট্রি ফিড মেশিনারি আমদানির ঘোষণা দিয়ে বিপুল পরিমাণ মদ, সিগারেট, ফটোকপিয়ার মেশিন আমদানি করে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে ১ হাজার ১৯৭ কোটি টাকা পাচার করেছেন

এফটি বাংলা

অস্তিত্বহীন প্রতিষ্ঠানের নামে মিথ্যা ঘোষণা দিয়ে পণ্য আমদানি দেখিয়ে প্রায় ১২০০ কোটা পাচারে জড়িত মূল হোতা দিদারুল আলম টিটু ও তার সহয়োগী কবির হোসেনকে গ্রেফতারের কথা জানিয়েছে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতর।

আইএফআইসি ব্যাংকের পল্টন ও শান্তিনগর শাখার মাধ্যমে এ টাকা পাচার হয়। আজ সোমবার রাজধানীর আইডিবি ভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানায় কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর।

সংস্থাটি গতকাল বিজয়নগরের মাহতাব সেন্টার থেকে এজাহারভুক্ত দুই আসামিকে গ্রেফতারের কথা জানিয়ে বলেছে, মোট ১১ আসামির মধ্যে দুজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অন্যদের দ্রুত গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

আসামিরা পোলট্রি ফিড মেশিনারি আমদানির ঘোষণা দিয়ে বিপুল পরিমাণ মদ, সিগারেট, ফটোকপিয়ার মেশিন আমদানি করে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে ১ হাজার ১৯৭ কোটি টাকা পাচার করেছেন।

গতকাল কাকরাইলের শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতরে আয়োজিত জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য দিয়েছেন সংস্থাটির মহাপরিচালক ড. মো. সহিদুল ইসলাম।

তিনি বলেন, আসামি দিদারুল আলম টিটু ও তার সহযোগী কবির হোসেন এবং আসামি আবদুুল মোতালেব ও অন্যান্য সহযোগী মেসার্স এগ্রো বিডি অ্যান্ড জেপি, হেনান আনহুই এগ্রো এলসি এবং হেব্রা ব্রাঙ্কো নামের তিনটি অস্তিত্বহীন প্রতিষ্ঠান খুলে মিথ্যা ঘোষণায় পোলট্রি ফিড মেশিনারি আমদানি দেখিয়ে ওই অর্থ পাচার করেছেন।

এ চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে তিনটি প্রতিষ্ঠানের নামে শুল্ক ফাঁকি ও অর্থ পাচার করছে। তাদের বিরুদ্ধে এ-সংক্রান্ত ১৫টি মামলা রয়েছে।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে শহিদুল ইসলাম জানান, আইএফআইসি ব্যাংকের পল্টন ও শান্তিনগর শাখার মাধ্যমে টাকাগুলো পাচার করা হয়েছে। তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে আরো তথ্য পাওয়া যাবে বলে আশা করছেন তিনি।

কাস্টমস গোয়েন্দা অধিদপ্তর জানায়, কর ফাঁকি এবং টাকা পাচারের জন্য যত রকম কাগজপত্রের প্রয়োজন হয় সবগুলো ফটোশপের মাধ্যমে প্রস্তুত করেছিল প্রতারক চক্রটি। অস্তিত্বহীন প্রতিষ্ঠানগুলোর নামে মোট ১২১টি কন্টেইনারে পোল্ট্রি ফিড মেশিনারি আমদানির ঘোষণা দিয়ে মদ, সিগারেট ও ফটোকপির মেশিন আমদানি করা হয়েছে।

শুল্ক গোয়েন্দা জানিয়েছে, গত ৭ নভেম্বর ৪৩১ কোটি ৭৫ লাখ টাকা পাচারের দায়ে মেসার্স এগ্রো বিডি অ্যান্ড জেপি নামক প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে পল্টন থানায় মামলা করা হয়। একই দিনে ৪৩৯ কোটি ১২ লাখ টাকা ও ১২ নভেম্বর ২৯০ কোটি ৮৯ লাখ টাকার মানি লন্ডারিংয়ের দায়ে হেব্রা ব্রাঙ্কো নামের প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে পল্টন থানায় মামলা হয়।

এর আগে ৩০ আগস্ট আসামি কবির হোসেনের বিরুদ্ধে ৮ কোটি ৩৬ লাখ টাকা পাচারের অভিযোগে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউস চট্টগ্রাম বন্দর থানায় মামলা করে।

Shamiur Rahman

Related