অবিলম্বে ব্যবস্থা নেয়ার দাবী নাগরিক সমাজের

সরকারি গাড়ী চালকদের কোটি কোটি টাকার সম্পদ অর্জনের উৎস কি?

Published: 19 May 2026 14:05

দুর্নীতিবাজ ও ক্ষমতার অপব্যবহারকারী এই ৪ জন সরকারি গাড়িচালকের বিরুদ্ধে 'দ্য ফিন্যান্স টুডে'র বিশেষ অনুসন্ধান এখনও চলমান আছে। তাদের বিভিন্ন অপকর্ম ও সম্পদের তথ্য যাচাই-বাছাই শেষে আগামী সংখ্যায় প্রকাশিত হবে

সরকারি গাড়ি চালকদের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরেই নানা ধরনের দুর্নীতি, অনিয়ম, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং অবৈধ সিন্ডিকেট করে বিভিন্ন অপকর্মে জড়িত হওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এসব চালকদের অধিকাংশই যখন যেই দলের সরকার ক্ষমতায় আসে তখন সেই দলের একনিষ্ঠ সমর্থক বনে যায়। যদিও তারা চাকুরী করে সরকারি দফতরের গাড়ীচালক পদে কিন্তু তাদের অর্জিত সম্পদ বড় বড় ব্যবসায়ীদের আয়কেও হার মানায়। এদের গাড়ী, বাড়ি, জায়গা, জমির বহর দেখলে যে কারও ভিমড়ি খাবার যোগাড় হওয়াই স্বাভাবিক।

দুর্নীতিতে সিদ্ধহস্ত গাড়ীচালক মামুন

আর্ন্তজাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের গাড়ী চালক মামুন। এলাকায় নিজেকে জাহির করেন ট্রাইব্যুনালের বড় কর্মকর্তা হিসেবে। উচ্চ আদালত ও নিম্ন আদালতের বিভিন্ন বড় বড় মামলার তদবির বানিজ্য, চাকরি দেয়ার মিথ্যা আশ্বাসে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে আজ মামুন অঢেল সম্পদের মালিক বনে গেছেন। ইতিমধ্যে ঢাকার মিরপুরের পল্লবী ইস্টার্ন হাউজিং এলাকায় একাধিক প্লট, নিজ গ্রামের বাড়িতে হঠাৎ বিপুল পরিমাণ জমিজমা ক্রয়ে গ্রামের মানুষ রীতিমতো হতবাক। এছাড়া, রাজধানীর নিউমার্কেট এলাকায় তার দোকান রয়েছে।

বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে দলটির অনেক  প্রভাবশালী নেতাদের সাথে সখ্যতার মাধ্যমে মামুন এই বিশাল অঙ্কের অর্থ কামিয়েছে বলে জানা গেছে। বর্তমানে বিএনপি ক্ষমতায় আসার পরপরই নিজেকে 'জাতীয়তাদী বাউল দল' নামে অনুমোদনহীন ও নামসর্বস্ব একটি দলের অঙ্গসংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারন সম্পাদক পরিচয় দিয়ে আবারও প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছে বলে জানা গেছে।

সূত্রমতে, ট্রাইব্যুনালের গাড়ী চালক হয়ে আসামী এবং তার আত্বীয়দের সাথে সখ্যতা গড়ে তুলে তথ্য পাচার করে লাখ লাখ টাকা কামিয়ে নিচ্ছে বলে বিভিন্নভাবে অভিযোগ আসছে। এছাড়া তার বিরুদ্ধে সরকারি চাকুরী দেবার কথা বলে বিভিন্নজনের কাছ থেকে লাখ লাখ হাতিয়ে নেয়ারও অভিযোগ আছে।

গাড়িচালক খোকন চিহ্নিত চাঁদাবাজ

মো: খোকন ঢাকা সিজিএম কোর্টের গাড়িচালক। তার বিরুদ্ধে সিজিএম কোর্টের বিভিন্ন মামলা বানিজ্যে জড়িত হয়ে তদবির-হুমকি-ধামকির মাধ্যমে বিপুল পরিমান অবৈধ অর্থ কামানোর অভিযোগ রয়েছে। সে এবং তার সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কয়েদি ঘরের আসামিদের কাছ থেকে হয়রানি ও হুমকি দিয়ে টাকা সংগ্রহ করার অভিযোগ আছে। এছাড়া, কোর্ট এলাকায় অবৈধ গাড়ী পার্কিং এবং বিভিন্ন দোকানপাট হতেও প্রকাশ্যে চাঁদাবাজির সিন্ডিকেটের অন্যতম সদস্য হিসেবে টাকা আদায় করে সে।

খোকন বর্তমানে আইনমন্ত্রীর পিএস’র গাড়িচালক হিসেবে কাজ করছে। এতো অভিযোগের পরও খোকন বহাল তবিয়তেঅ কাজ চালিয়ে চাচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন মহলে কানাঘুষা চললেও তাদের বিরুদ্ধে এখনো কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। 

অপরদিকে, একই কোর্টে খোকনের মেয়ের জামাইও দৈনিক ভিত্তিতে গাড়িচালক হিসেবে কাজ করছে। শ্বশুরের ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে তার বিভিন্ন লোকজন আত্মীয়-স্বজনকে কাজের বিনিময় টাকা পয়সা বাগিয়ে নেয়ার সুযোগ করে দিয়েছে।

তদবিরবাজ মো: ফেরদৌস

ঢাকা জেলা জজ কোর্টের সহকারী জজ আদালতের গাড়িচালক মোঃ ফেরদৌস হলো এই সিন্ডিকেটের অন্যতম সদস্য। দীঘদিন আদালত পাড়ায় থেকে সে গড়ে তুলেছে বিরাট সিণ্ডিকেট। বিভিন্ন মামলায় তদবির এবং নানা অনিয়মের সে। ৬৪ জেলা গাড়িচালক সমবায় সমিতির নামে সে এবং তার বাহিনী সারাদেশে ক্ষমতা বিস্তার করেছে বলে ব্যাপক অভিযোগ রয়েছে।

দুর্নীতিবাজ ও ক্ষমতার অপব্যবহারকারী এই ৪ জন সরকারি গাড়িচালকের বিরুদ্ধে 'দ্য ফিন্যান্স টুডে'র বিশেষ অনুসন্ধান এখনও চলমান আছে। তাদের বিভিন্ন অপকর্ম ও সম্পদের তথ্য যাচাই-বাছাই শেষে আগামী সংখ্যায় প্রকাশিত হবে।

Shamiur Rahman

Please share your comment:

Related