মিরসরাইয়ে নিহত তাহমিদের পরিবারকে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি
উক্ত সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন নিহত তাহমিদের বাবা আলমগীর হোসেন, মা বিবি জোহরা বেগম এবং বড় বোন আকলিমা
চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলার বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সদস্য ও ইউনাইটেড পিপলস বাংলাদেশ (আপ বাংলাদেশ) নামক প্ল্যাটফর্মের নেতা গাজী তাহমিদ খান (২৫) হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছে তার পরিবার।
বুধবার (১৭ ডিসেম্বর) বিকেলে বারইয়ারহাট পৌরসভাস্থ তাহমিদের নিজ বাড়িতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এই সংবাদ সম্মেলনে নিহতের ছোট বোন ফারিয়া আক্তার লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন।
তিনি বলেন, ‘আমার ভাই তাহমিদকে ঘর থেকে ডেকে নিয়ে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। বর্তমানে অজ্ঞাত পরিচয়ে বিভিন্ন লোকজন প্রায়শই বাড়িতে এসে এই হত্যার ঘটনায় বেশী বাড়াবাড়ি না করতে আমাদেরকে হুমকি দিয়ে যাচ্ছে। অন্যথায় পরিবারের সবাইকে শেষ করে দেয়া হবে।’
তিনি জানান, হত্যার ঘটনায় তারা কয়েকজনকে সন্দেহ করছেন। সন্দেহভাজনদের মধ্যে ঘর থেকে ডেকে নেয়া ব্যক্তি, স্বজন ও প্রতিবেশী কয়েকজন রয়েছেন।
ফারিয়া আক্তার আরও বলেন, হত্যাকাণ্ডের সময় ঘটনাস্থল ও এর আশেপাশে বেশ কয়েকটি সিসি ক্যামেরা রয়েছে। এই সিসিটিভি ফুটেজগুলো চেক করে তাহমিদের শরীরের বিভিন্ন স্থানে যারা কুপিয়েছে তাদেরকে দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে হবে। আমার ভাইকে যারা নির্মমভাবে হত্যা করেছে; সেই খুনিদের সর্বোচ্চ শাস্তি চাই আমরা।
উক্ত সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন নিহত তাহমিদের বাবা আলমগীর হোসেন, মা বিবি জোহরা বেগম এবং বড় বোন আকলিমা।
উল্লেখ্য যে, জুলাই যোদ্ধা গাজী তাহমিদ খান চট্রগ্রামে মিরসরাইয় উপজেলায় বারইয়ারহাট পৌরসভার ৩নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা মো. আলমগীর হোসেনের ছেলে। তিনি নিরাপদ সড়ক আন্দোলন মিরসরাই উপজেলা শাখার যুগ্ম আহ্বায়কের দায়িত্বেও ছিলেন।
গত ১০ই ডিসেম্বর সন্ধ্যায় বারইয়ারহাট এলাকায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সদস্য মো. তাহমিদ উল্লাহ (১৮) কে দুর্বৃত্তরা কুপিয়ে গুরুতর আহত করে। এসময় স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে বারইয়ারহাট মেডিকেল সেন্টার ও পরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। পরে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে দ্রুত তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। অতিরিক্ত রক্তক্ষরনে ফলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সেখানেই তার মৃত্যু হয়।
পরবর্তীতে তাহমিদ খানের মা জোহরা বেগম ১২ ডিসেম্বর রাতে বাদি হয়ে অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামী করে জোরারগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
আসামীদের ধরার ব্যাপারে জানতে চাইলে জোরারগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কাজী নাজমুল হক এই প্রতিবেদককে বলেন, ‘মূলত জুনিয়র-সিনিয়র দ্বন্দ্বে বিএনপির একই গ্রুপের দুইপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে তাহমিদ নিহত হন। এই ঘটনায় স্থানীয় ছাত্রদলকর্মী চাকমা জাহিদকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
নিরাপত্তাহীনতার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে এখনও আমাদেরকে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি। তবে তারা নিরাপত্তাহীনতায় থাকলে আইন অনুযায়ী আমরা অবশ্যই প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করবো।’
Shamiur Rahman
