রাজবাড়ীতে পদ্মা নদী থেকে রিকশা শ্রমিকের লাশ উদ্ধার

Published: 12 April 2026 13:04

রোববার (১২ এপ্রিল) সকালে রাজবাড়ীর সদর উপজেলার বরাট ইউনিয়নের উড়াকান্দা মোল্লাপাড়া এলাকায় বেড়িবাঁধের পাশে পদ্মা নদীর তীরে স্থানীয়রা ভাসমান অবস্থায় মরদেহটি দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দেয়। পরে রাজবাড়ী সদর থানা থেকে পুলিশ এসে লাশটি

রাজবাড়ী সদর উপজেলার উড়াকান্দা এলাকায় পদ্মা নদী থেকে লিটন খান নামে এক ব্যাটারিচালিত রিকশা চালকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ধারণা করা হচ্ছে রিকশা ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে তাকে হত্যা করে নদীতে ফেলে দেওয়া হয়েছে।

রোববার (১২ এপ্রিল) সকালে রাজবাড়ীর সদর উপজেলার বরাট ইউনিয়নের উড়াকান্দা মোল্লাপাড়া এলাকায় বেড়িবাঁধের পাশে পদ্মা নদীর তীরে স্থানীয়রা ভাসমান অবস্থায় মরদেহটি দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দেয়। পরে রাজবাড়ী সদর থানা থেকে পুলিশ এসে লাশটি উদ্ধার করে।

এলাকাবাসী জানায়, সকাল ৭ টার দিকে পদ্মা নদীতে গোসল করতে এসে একটি লাশ দেখতে পায়। তার মাথায় হাতুঁড়ি দিয়ে থেঁতলে দেয়া হয়েছে। সম্ভবত রিকশা ছিনতাইয়ের জন্য তাকে হত্যা করা হতে পারে।

রাজবাড়ী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) উত্তম কুমার ঘোষ জানান, আজ সকালে খবর পেয়ে লিটন খান (৪২) নামে এক ব্যাক্তির লাশ উদ্বার করা হয়েছে। পুলিশের একটি টিম ঘটনাস্থলে অবস্থান করছে।

সরোজমিনে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, পুলিশের একটি টিম ঘটনাস্থলে অবস্থান করছে। নৌ পুলিশের একটি দল আলামত সংগ্রহ করতে কাজ করছেন।

এসময় হত্যার মোটিভ সম্পর্কে জানতে চাইলে সদর থানার এসআই ওবায়দুর রহমান এই প্রতিবেদককে বলেন, সকালে ট্রিপল নাইনে ফোন পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে এসে লাশটি উদ্ধার করি। ধারণা করা হচ্ছে, দুর্বৃত্তরা তার কাছে থাকা রিকশাটি ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যেই তাকে হত্যা করে এবং লাশটি গোপন করার জন্য পদ্মার নদীর পাড়ে পানির মধ্যে ফেলে রাখে। মরদেহের সুরতহাল রিপোর্ট তৈরির পর ময়নাতদন্তের জন্য লাশটি রাজবাড়ী সদর হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করা হয়।

নিহত লিটন খান সদর উপজেলার দাদশী ইউনিয়নের রাধাকান্তপুর গ্রামের আক্কাস খানের ছেলে। চার ভাই বোনের মধ্যে সে ছিলো দ্বিতীয়। তবে লিটন পরিবার নিয়ে একই ইউনিয়নের রামচন্দ্রপুর তালতলা এলাকায় বসবাস করতেন। তার একটি ছেলে এবং একটি মেয়ে রয়েছে। 

নিহতের স্ত্রী হালিমা বেগম বলেন, শনিবার (১১ এপ্রিল) রাতে লিটন বাসা থেকে জ্যাকেট নিয়ে বের হয়। তখন সে বলে, দূরে ভাড়া আছে, বাড়িতে আসতে দেরি হতে পারে। রাত ১২টার দিকে তাকে মিসকল দিলে সে কল দেয়নি। রাত ৩টার দিকে দেখি সে বাসায় আসে নাই। আমার মেয়েকে দিয়ে ফোন দেওয়াইছি কিন্তু ফোন বন্ধ ছিলো। এরপর থেকে তাকে অনেক খোঁজাখুঁজি করে কোথাও পাইনি। সকালে মানুষের কাছে নদীতে পড়ে থাকা একটি লাশ পাওয়া গেছে শুনতে পেরে এসে লিটনকে মৃত অবস্থায় দেখতে পাই।

লিটন খানের স্ত্রী আরও বলেন, তার স্বামী খুবই কর্মঠ ব্যক্তি ছিলেন। সে পেশায় রিকশাচালক হলেও যখন যে কাজ পেতো তখন সেই কাজই তিনি করতেন। দুর্বৃত্তরা ব্যাটারিচালিত রিকশাটি ছিনতাই করার জন্যই আমার স্বামীকে হত্যা করেছে।

এদিকে, বরাট উইনিয়নের চেয়ারম্যান কাজী শামসুদ্দিন জানান, আমার জানা মতে সে কোন অবৈধ কাজের সাথে যুক্ত ছিল না।

Shamiur Rahman

Please share your comment:

Related