ইউক্রেন ইস্যুতে আবার আলোচনায় বসছে রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র

Published: 26 February 2025 23:02

বৃহস্পতিবার এই আলোচনায় রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রে কূটনৈতিক কর্মকাণ্ডের জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি করা হবে

ইউক্রেন যুদ্ধ সমাধান ও দ্বিপাক্ষিক বিরোধ অবসানে তুরস্কের ইস্তাম্বুলে আলোচনায় বসতে যাচ্ছে রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র। রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ মঙ্গলবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, বৃহস্পতিবার এই আলোচনায় রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রে কূটনৈতিক কর্মকাণ্ডের জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি করা হবে। এর আগে দূতাবাসের কর্মী সংখ্যা ও সম্পত্তি নিয়ে দুই দেশের মধ্যে বেশ কয়েকটি বিরোধ তৈরি হয়েছিল। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এই খবর জানিয়েছে।

ল্যাভরভ বলেছেন, ১২ ফেব্রুয়ারি রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যে টেলিফোন আলোচনা এবং ১৮ ফেব্রুয়ারি সৌদি আরবে রাশিয়া-যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের পর ইস্তাম্বুলে আলোচনার ফলাফল দেখাবে আমরা কত দ্রুত ও কার্যকরভাবে এগোতে পারি।

ট্রাম্প দ্রুত ইউক্রেনে যুদ্ধবিরতির দিকে এগোতে চান বলে জানিয়েছেন। তবে পুতিন দ্রুত অগ্রগতির সম্ভাবনা নিয়ে আশাবাদী নন। তিনি বলেছেন, রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আস্থা পুনরুদ্ধার না করে কোনও অর্জন সম্ভব নয়।

ল্যাভরভের বর্ণনা অনুযায়ী, বৃহস্পতিবারের আলোচনার এজেন্ডা ইঙ্গিত দেয় যে, দুই পক্ষ প্রথমে কূটনৈতিক সম্পর্কের প্রযুক্তিগত বাধাগুলো সমাধানে মনোনিবেশ করবে, তারপর আরও উচ্চাভিলাষী লক্ষ্যে এগোবে। তিনি এই পরিস্থিতির জন্য ট্রাম্পের পূর্বসূরি জো বাইডেনের প্রশাসনকে দায়ী করেছেন।

ল্যাভরভ বলেন, আমাদের উচ্চপর্যায়ের কূটনীতিক ও বিশেষজ্ঞরা বৈঠকে বসবেন এবং পূর্ববর্তী প্রশাসনের অবৈধ কার্যকলাপের ফলে সৃষ্ট পদ্ধতিগত সমস্যাগুলো বিবেচনা করবেন। রাশিয়ার দূতাবাসের কার্যক্রমে কৃত্রিম বাধা সৃষ্টি করা হয়েছিল, যার জবাবে আমরা স্বাভাবিকভাবেই মস্কোতে মার্কিন দূতাবাসের কাজের জন্য অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরি করেছি।

আলোচনা এগিয়ে যাওয়ার সাথে সাথে দুই দেশই ইউক্রেন যুদ্ধের সমাধান খুঁজতে চাইছে, পাশাপাশি লাভজনক ব্যবসায়িক উদ্যোগের সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা করতে আগ্রহী। পুতিন এই সপ্তাহে বলেছেন, রাশিয়া এবং ইউক্রেনের যে অংশগুলো রাশিয়া নিজের অঞ্চল বলে দাবি করেছে, সেখানে বিরল মৃত্তিকা খনিজের মজুদ অনুসন্ধানের জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে যৌথ প্রকল্পে আমন্ত্রণ জানাতে মস্কো প্রস্তুত।

ট্রাম্পের দ্রুত পদক্ষেপে রাশিয়ার সাথে সম্পর্ক মেরামতের চেষ্টা, যা বাইডেনের নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে রাশিয়াকে বিচ্ছিন্ন করার নীতিকে পাল্টে দিয়েছে, তা কিয়েভ ও তার ইউরোপীয় মিত্রদের মধ্যে আশঙ্কা তৈরি করেছে যে কোনও সম্ভাব্য চুক্তিতে তাদেরকে পাশ কাটানো হতে পারে।

ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকোভ বুধবার পুনর্ব্যক্ত করেছেন যে, পুতিন ও ট্রাম্পের ব্যক্তিগত সাক্ষাতের বিষয়ে একটি সমঝোতা রয়েছে, তবে এটা কখন এবং কোথায় হবে তা নিয়ে এখনও কোনও বিস্তারিত জানা যায়নি। তিনি বলেন, প্রয়োজনে দুই নেতা আবারও ফোনে কথা বলতে পারেন, তবে এখনই এমন কোনও পরিকল্পনা নেই।

Shamiur Rahman

Related