‘ একটি ভোটও অমূল্য’—বদলে দিতে পারে ইতিহাসের মোড়; ১২ ফেব্রুয়ারি আপনার সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত
সামনে আর মাত্র ৩ দিন। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। চায়ের কাপে ঝড় থেকে শুরু করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম—সবখানেই এখন ভোটের আলোচনা
‘ একটি ভোটও অমূল্য’—বদলে দিতে পারে ইতিহাসের মোড়; ১২ ফেব্রুয়ারি আপনার সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত
আবদুর রহিম, স্টাফ রিপোর্টার
ঢাকা | ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
সামনে আর মাত্র ৩ দিন। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। চায়ের কাপে ঝড় থেকে শুরু করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম—সবখানেই এখন ভোটের আলোচনা। কিন্তু এর মাঝেও অনেক ভোটার ভাবছেন—‘আমার একটি ভোটে আর কী হবে?’ অথবা ‘আমি ভোট না দিলেও তো কেউ না কেউ জিতেই যাবে।’
গণতন্ত্রের ইতিহাসে এই চিন্তাটিই সবচেয়ে বড় ভুল। ইতিহাস সাক্ষী, মাত্র একটি ভোটের ব্যবধানে সরকার পতন হয়েছে, আইন পাস হয়েছে, এমনকি ক্ষমতার পালাবদলও ঘটেছে। তাই আপনার হাতের ওই একটি সিল বা আঙুলের ছাপ কেবল একটি চিহ্ন নয়, এটি আগামীর বাংলাদেশ গড়ার চাবিকাঠি।
কেন আপনার ভোটটি ‘অমূল্য’?
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এবারের নির্বাচনে অনেক আসনেই ত্রিমুখী বা চতুর্মুখী লড়াই হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে বিদ্রোহী প্রার্থী এবং জোটের সমীকরণে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে মাত্র ১০-২০ ভোটের ব্যবধানেও জয়-পরাজয় নির্ধারিত হতে পারে। অতীতে দেখা গেছে, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এমনকি জাতীয় নির্বাচনেও মাত্র ১ ভোটের ব্যবধানে প্রার্থী হেরে গেছেন। সেই ১টি ভোট যদি আপনি দিতেন, তবে ফলাফল ভিন্ন হতে পারত।
সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)-এর এক পরিসংখ্যান মতে, বাংলাদেশের প্রায় ২০ শতাংশ মানুষ অলসতা বা অনীহার কারণে ভোট দিতে যান না। অথচ এই ২০ শতাংশ ভোট যেকোনো নির্বাচনের ফলাফল উল্টে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে।
একটি ভোট: প্রতিবাদ ও সম্মতির হাতিয়ার
আপনার ভোটটি কেবল একটি ব্যালট পেপার নয়। এটি আপনার এলাকার উন্নয়ন, নিরাপত্তা এবং অধিকার আদায়ের দলিল। আপনি যদি সৎ ও যোগ্য প্রার্থীকে ভোট না দেন, তবে অযোগ্য কেউ নির্বাচিত হলে আগামী ৫ বছর তার দায়ভার পরোক্ষভাবে আপনার ওপরও বর্তাবে।
এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের এক শিক্ষক বলেন, “গণতন্ত্রে নীরব থাকার সুযোগ নেই। আপনি ভোট না দেওয়া মানে হলো, আপনি মন্দকে মেনে নিলেন। খারাপ লোক নির্বাচিত হওয়ার জন্য ভালো মানুষদের ভোট না দেওয়াই যথেষ্ট।”
নতুন ভোটারদের দায়িত্ব
এবারের নির্বাচনে তরুণ ও নতুন ভোটারের সংখ্যা অনেক বেশি। ৫ আগস্ট-পরবর্তী বাংলাদেশে তরুণরাই পরিবর্তনের স্বপ্ন দেখিয়েছে। সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটকেন্দ্রে যাওয়া তাদের নৈতিক দায়িত্ব। একটি ভোট বিক্রি না করা, ভয়ভীতির ঊর্ধ্বে থেকে নিজের পছন্দমতো প্রার্থীকে বেছে নেওয়াই হবে প্রকৃত দেশপ্রেম।
আপনার সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত
ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার আগে মনে রাখবেন—
১. আপনার ভোটটি কেউ ছিনিয়ে নিতে পারবে না, যদি আপনি সচেতন হন।
২. টাকার বিনিময়ে ভোট বিক্রি করা মানে নিজের ভবিষ্যৎ বিক্রি করা।
৩. প্রার্থীর যোগ্যতা যাচাই করুন, মার্কা বা আবেগের বশবর্তী হয়ে নয়।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত আপনার হাতে থাকবে দেশের ক্ষমতা। সেই ক্ষমতার প্রয়োগ করুন। মনে রাখবেন, বিন্দু বিন্দু জলেই যেমন সিন্ধু হয়, তেমনি আপনার-আমার একেকটি ভোটেই তৈরি হবে আগামীর নেতৃত্ব। তাই ঘরে বসে না থেকে ভোট দিন, নিজের অধিকার বুঝে নিন।
Shamiur Rahman
