ঢাবির দুই হলের আতঙ্কিত শিক্ষার্থীদের নিচে লাফ, আহত ৩

Published: 21 November 2025 13:11

মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান হলের এক শিক্ষার্থীর পা ভেঙে গেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ছুটির দিনের সকালে শক্ত ঝাঁকুনিতে কেঁপে উঠল ঘরবাড়ি, আতঙ্ক ছড়াল ঢাকাসহ সারা দেশে। বাংলাদেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ সময় স্থায়ী হওয়া এই ভূমিকম্পে এখন পর্যন্ত শিশু সহ ৪ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গিয়েছে।

মাঝারি মাত্রার এই ভূমিকম্পের ঘটনায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়েরর হাজী মুহম্মদ মুহসীন হলের তিনতলা ও মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান হলের চারতলা থেকে নিচে লাফ দিয়ে তিন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন।

তাদের মধ্যে মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান হলের শিক্ষার্থীর পা ভেঙে গেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাকে দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।

এছাড়া মুহসীন হলের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী তানজীর আহমেদ এবং একই শিক্ষাবর্ষের থিয়েটার অ্যান্ড পারফরম্যান্স বিভাগের এক শিক্ষার্থীও নিচে লাফিয়ে পড়লে আহত হন।

স্যার এ এফ রহমান হলের একটি কক্ষের জিনিসপত্র তছনছ হয়ে গেছে।

ওই হলের আবাসিক শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, "ভূমিকম্প আসার পর ১০৫ নাম্বার পুরো তছনছ হয়ে যায়। আমরা এসে দেখি, সব নিচে পড়ে আছে।"

হাজী মুহম্মদ মুহসিন হল, কবি জসীমউদ্দিন হল, স্যার এ এফ রহমান, মোকাররম ভবন, শেখ ফজলুল হল সহবেশ কয়েকটি জায়গায় পলেস্তারা খসে পড়েছে। শামসুন্নাহার হলের একটি ভবনে দেয়াল আলাদা হয়ে গেছে। এছাড়া ভূমিকম্পের সময় বিভিন্ন হলের শিক্ষার্থীরা আতঙ্কিত হয়ে নিচে নেমে আসে।

আরও পড়ুন: ৫.৭ মাত্রার ভয়াবহ ভূমিকম্পে কাঁপল ঢাকা, নিহত ৪

শুক্রবার (২১ নভেম্বর) সকাল ১০টা ৩৮ মিনিটের দিকে এই ভূমিকম্প অনুভূত হয়। অ্যান্ড্রয়েড আর্থকোয়েক অ্যালার্ট সিস্টেম বলছে, সকাল ১০টা ৩৮ মিনিটে এই ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল রিখটার স্কেলে ৫.৭। ভূমিকম্পটি কয়েক সেকেন্ড স্থায়ী ছিল।

এই ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল ছিলো রাজধানী ঢাকার কাছাকাছি নরসিংদীর ঘোড়াশাল। ভূপৃষ্ঠ থেকে ১০ কিলোমিটার গভীরে এই ভূমিকম্পের উৎপত্তি হয়।

আজকের এই ভূমিকম্পকে এযাবৎকালের মধ্যে সর্বোচ্চ বলে উল্লেখ করেছেন ভূমিকম্প বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক হুমায়ুন আখতার। তিনি বলেন, ইউরোপিয়ান সিসমোলোজিক্যাল সেন্টারের তথ্য অনুযায়ী, এই ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল ৬।

যে অঞ্চলে ভূমিকম্পটি হয়েছে, সেটি ইন্দো-বার্মা টেকনিক প্লেটের অংশভুক্ত বলে জানান অধ্যাপক হুমায়ুন আখতার। তিনি বলেন, ভূমিকম্পটিতে যে তীব্র, যে প্রচণ্ড ঝাঁকুনি অনুভূত হয়েছে, তা তাঁর অভিজ্ঞতায় বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এযাবৎকালের মধ্যে সর্বোচ্চ।

মাগুরা, চাঁদপুর, নীলফামারী, সীতাকুণ্ড, সিরাজগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ, পটুয়াখালী, বগুড়া, বরিশাল, মৌলভীবাজার থেকে এই ভূমিকম্প অনুভূত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। ভূমিকম্পের সময় ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় অনেকেই আতঙ্কে ঘর থেকে রাস্তায় বেরিয়ে আসেন।

Shamiur Rahman

Related