লাফিয়ে বাড়ছে তেলের দাম, সরবরাহ শঙ্কায় বিশ্ব
মার্কিন-ইসরায়েলি সামরিক আগ্রাসনের জবাবে ইরানের পাল্টা হামলার জেরে বিশ্ব জ্বালানি বাজারে এক নজিরবিহীন অস্থিরতা তৈরি হয়েছে
মার্কিন-ইসরায়েলি সামরিক আগ্রাসনের জবাবে ইরানের পাল্টা হামলার জেরে বিশ্ব জ্বালানি বাজারে এক নজিরবিহীন অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, যার ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম দ্রুতগতিতে বৃদ্ধি পেয়ে প্রতি ব্যারেল ১০০ ডলারের মাইলফলক ছাড়িয়ে গেছে। রোববার (৮ মার্চ) আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ২০ শতাংশের বেশি বেড়ে এক পর্যায়ে ১১৪ ডলারে পৌঁছালেও সোমবার (৯ মার্চ) তা ব্যারেলপ্রতি সর্বোচ্চ ১১৯.৫০ ডলার পর্যন্ত উঠেছিল, যা বর্তমানে কিছুটা সংশোধন হয়ে ১১২.৯৮ ডলারে লেনদেন হচ্ছে।
২০২২ সালে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের পর এই প্রথম জ্বালানি তেলের বাজার এমন অগ্নিমূল্য প্রত্যক্ষ করছে, যেখানে বিশ্লেষকদের মতে, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কায় অপরিশোধিত তেলের দাম এক লাফে ২৪ থেকে ২৬ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে।
ট্রেডিং ডটকম অস্ট্রেলিয়ার প্রধান নির্বাহী পিটার ম্যাকগুইর সতর্ক করেছেন যে, উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলো যদি উৎপাদন বন্ধ করে দেয় তবে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১৪০ থেকে ১৫০ ডলার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে, এমনকি ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) হুঁশিয়ারি দিয়েছে যে হামলা অব্যাহত থাকলে জ্বালানি স্থাপনাগুলো লক্ষ্যবস্তু করা হবে—যার ফলে দাম ২০০ ডলারেও ঠেকতে পারে। উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে জি-৭ ভুক্ত দেশগুলো জরুরি মজুত তেল বাজারে ছাড়ার পরিকল্পনা করলেও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং জ্বালানি সচিব ক্রিস রাইট এই মূল্যবৃদ্ধিকে সাময়িক ও ‘বিশ্ব শান্তির জন্য একটি ছোট মূল্য’ হিসেবে অভিহিত করে খুব একটা উদ্বেগ দেখাননি।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যৌথ হামলা শুরুর পর থেকে বিশ্ববাজারে তেলের দাম ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ শতাংশ বেড়েছে, যা বৈশ্বিক অর্থনীতিতে দীর্ঘমেয়াদী মুদ্রাস্ফীতি ও সংকটের কালো ছায়া ফেলছে।
Shamiur Rahman

Please share your comment: