রক্তাক্ত বুরকিনা ফাসো: অস্তাচলের পথে আফ্রিকার চে গুয়েভারা?
গত ১২ ফেব্রুয়ারি থেকে টানা চার দিন দেশটির বেলাঙ্গা, চিটাও, তানজারি এবং নারে এলাকার সেনাছাউনিগুলোতে আল-কায়দা ও আইএসের এই সাঁড়াশি চাপে রক্তক্ষরণ বাড়ছে সেনাবহিনীতে, প্রাণ হারাচ্ছেন সাধারণ নাগরিক ও স্বেচ্ছাসেবকেরাও
পশ্চিম আফ্রিকার উত্তপ্ত মরু বাতাসে এখন বারুদের গন্ধ। সাবেক ফরাসি উপনিবেশ বুরকিনা ফাসোর একের পর এক সামরিক ঘাঁটিতে ভয়াবহ জঙ্গি হামলা নতুন করে প্রশ্ন তুলে দিয়েছে তরুণ সামরিক শাসক ক্যাপ্টেন ইব্রাহিম ত্রাওরের ভবিষ্যৎ নিয়ে।
গত ১২ ফেব্রুয়ারি থেকে টানা চার দিন দেশটির বেলাঙ্গা, চিটাও, তানজারি এবং নারে এলাকার সেনাছাউনিগুলোতে অতর্কিত আক্রমণ চালিয়েছে কয়েকশো সশস্ত্র জঙ্গি। আল-কায়দা ও আইএসের এই সাঁড়াশি চাপে রক্তক্ষরণ বাড়ছে সেনাবহিনীতে, প্রাণ হারাচ্ছেন সাধারণ নাগরিক ও স্বেচ্ছাসেবকেরাও।
এই অস্থিরতা কি তবে বুরকিনা ফাসোর ‘ত্রাতা’ হয়ে ওঠা ত্রাওরের শাসনের ইতি ঘটাবে নাকি বিদ্রোহীদের দমনে আরও কঠোর হবেন এই ছাব্বিশের বিপ্লবী, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর গুঞ্জন।
২০২২ সালে এক সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতা দখল করেছিলেন ক্যাপ্টেন ইব্রাহিম। থমাস সাঙ্কারার উত্তরসূরি হিসেবে পরিচিত এই নেতাকে তার সমর্থকরা ভালোবেসে ডাকেন ‘আফ্রিকার চে গুয়েভারা’।
ক্ষমতায় এসেই তিনি বুরকিনা ফাসোকে পশ্চিমা প্রভাবমুক্ত করার ডাক দিয়েছিলেন। বিশেষ করে ফ্রান্সের সঙ্গে সামরিক চুক্তি বাতিল করে রুশ বাহিনীর সঙ্গে হাত মেলানোয় প্যারিসের চক্ষুশূল হয়ে ওঠেন তিনি। ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাক্রোঁ একে স্বৈরাচারী মনোভাব বলে আখ্যা দিলেও ত্রাওরের জনপ্রিয়তা কমেনি। বিশেষ করে সৌদি আরবের দেওয়া ২০০টি মসজিদ তৈরির প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়ে সেখানে স্কুল ও হাসপাতাল গড়ার দাবি জানিয়ে তিনি আলোচনার কেন্দ্রে উঠে আসেন।
কিন্তু মুদ্রার উল্টো পিঠ বলছে অন্য কথা। গত এক বছরে হিউম্যান রাইটস ওয়াচের প্রতিবেদনে সরকারি বাহিনীর বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগ উঠেছে, যা নিয়ে বিশ্বজুড়ে হইচই শুরু হয়।
বিশ্লেষকদের মতে, বুরকিনা ফাসোর প্রায় ৪০ শতাংশ এলাকা এখন জঙ্গিদের নিয়ন্ত্রণে। একদিকে আল-কায়দা ও আইএসের ক্রমবর্ধমান শক্তি, অন্যদিকে ফ্রান্সের সম্ভাব্য নেপথ্য ষড়যন্ত্র; এই দুইয়ের মাঝখানে দাঁড়িয়ে ত্রাওরের গদি এখন টালমাটাল।
এদিকে, রাশিয়ার ওয়াগনার গ্রুপের সাহায্য নিয়েও এই রক্তপাত কেন বন্ধ করা যাচ্ছে না, তা নিয়ে খোদ সেনার ভেতরেই অসন্তোষ দানা বাঁধতে পারে। আফ্রিকার প্রাকৃতিক সম্পদ ও সোনার খনিগুলোর ওপর নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে মরিয়া এই তরুণ নেতার স্বপ্ন এখন জঙ্গি হামলার বুটের তলায় পিষ্ট হওয়ার মুখে।
যদি দ্রুত এই নিরাপত্তা সংকটের সমাধান না হয়, তবে ‘অন্ধকার মহাদেশের’ এই উদীয়মান নক্ষত্রের পতন কেবল সময়ের অপেক্ষা বলেই মনে করছেন প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা।
Shamiur Rahman
