দুর্নীতি বা তদবির বাণিজ্য সহ্য করা হবে না: শিক্ষামন্ত্রী
নবনির্বাচিত শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথম সংবাদ সম্মেলনেই শিক্ষা প্রশাসনের রন্ধ্রে রন্ধ্রে থাকা দুর্নীতি, অনিয়ম এবং তদবির বাণিজ্যের বিরুদ্ধে অত্যন্ত কঠোর ও আপসহীন অবস্থান ঘোষণা করেছেন
নবনির্বাচিত শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথম সংবাদ সম্মেলনেই শিক্ষা প্রশাসনের রন্ধ্রে রন্ধ্রে থাকা দুর্নীতি, অনিয়ম এবং তদবির বাণিজ্যের বিরুদ্ধে অত্যন্ত কঠোর ও আপসহীন অবস্থান ঘোষণা করেছেন।
বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন যে, শিক্ষাখাতে প্রশাসনিক স্বচ্ছতা বজায় রাখতে কোনো ধরনের অনৈতিক প্রভাব বা আর্থিক লেনদেন সহ্য করা হবে না এবং বিগত সরকারের আমলে বিভিন্ন প্রকল্পের নাম ভাঙিয়ে যারা রাষ্ট্রীয় অর্থের অপচয় করেছে, তাদের প্রত্যেককে জবাবদিহিতার আওতায় আনা হবে।
গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে চাঁদপুর-১ আসন থেকে বিপুল জনসমর্থন নিয়ে বিজয়ী হওয়া এই মন্ত্রী গতানুগতিক ধারার বাইরে এসে শিক্ষাকে আধুনিকায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন; বিশেষ করে দলবদ্ধ হয়ে বা 'মব' তৈরি করে পরীক্ষা বন্ধ করা কিংবা অটো-পাসের মতো সংস্কৃতি থেকে বের হয়ে এসে মেধাভিত্তিক ও যুগোপযোগী শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর জোর দিয়েছেন।
ভর্তি বাণিজ্য চিরতরে বন্ধে তিনি একটি বিশেষ ডিজিটাল অ্যাপ্লিকেশন (App) চালু করার বৈপ্লবিক পরিকল্পনার কথা জানান, যার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা কোনো সুপারিশ ছাড়াই মেধার ভিত্তিতে ভর্তি হতে পারবে। পাশাপাশি, যত্রতত্র গড়ে ওঠা মানহীন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের লাগাম টানতে তিনি হুঁশিয়ারি দেন যে, পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও ফায়ার এক্সিট ছাড়া কোনো গ্যারেজ কিংবা আবাসিক ভবনে স্কুল পরিচালনা করতে দেওয়া হবে না।
শিক্ষকদের রাজপথে আন্দোলনের প্রয়োজনীয়তা ফুরিয়ে গেছে উল্লেখ করে তিনি দাবি আদায়ের শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করার আশ্বাস দেন এবং সেই সঙ্গে ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলগুলোকে সরকারি নিয়ন্ত্রণে আনার সদিচ্ছা ব্যক্ত করেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মন্ত্রিসভার এই গুরুত্বপূর্ণ সদস্যের কঠোর অবস্থান এবং পরিকল্পিত সংস্কার কর্মসূচি শিক্ষাখাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে এক নতুন আশার সঞ্চার করেছে।
Shamiur Rahman
