যুক্তরাষ্ট্র- ইরান উত্তেজনা: কোন পথে যাবে বিশ্ববাজার
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বের প্রয়াণ এবং এর বিপরীতে তেহরানের পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র হামলার প্রেক্ষাপটে বিশ্ব অর্থনীতি এখন এক গভীর অনিশ্চয়তা ও প্রলয়ঙ্করী অস্থিরতার মুখে দাঁড়িয়েছে
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বের প্রয়াণ এবং এর বিপরীতে তেহরানের পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র হামলার প্রেক্ষাপটে বিশ্ব অর্থনীতি এখন এক গভীর অনিশ্চয়তা ও প্রলয়ঙ্করী অস্থিরতার মুখে দাঁড়িয়েছে।
ডন-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, বৈশ্বিক জ্বালানি তেলের বাজার নিয়ে সবচেয়ে বড় উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, কারণ বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পারস্য উপসাগরের কৌশলগত হরমুজ প্রণালী দিয়ে পরিবাহিত হয়; ফলে এই সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে বর্তমানে ব্যারেল প্রতি ৭৩ ডলারে থাকা ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম অনায়াসেই ১০০ ডলারের মাইলফলক স্পর্শ করতে পারে।
অর্থনৈতিক বিশ্লেষক উইলিয়াম জ্যাকসনের মতে, জ্বালানির এই মূল্যবৃদ্ধি বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতিকে দশমিক ৬ থেকে দশমিক ৭ শতাংশ পর্যন্ত বাড়িয়ে দিতে পারে, যা সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় ব্যাপক প্রভাব ফেলবে।
অন্যদিকে, শেয়ারবাজারে অস্থিরতা পরিমাপক সূচক ‘ভিআইএক্স’ এক-তৃতীয়াংশ বেড়ে যাওয়ায় এবং মার্কিন বন্ড বাজারে অস্থিরতা ১৫ শতাংশ বৃদ্ধি পাওয়ায় বিনিয়োগকারীরা চরম আতঙ্কে রয়েছেন। মুদ্রাবাজারে ডলারের আধিপত্য বজায় থাকলেও নিরাপদ সম্পদ হিসেবে জাপানি ইয়েন ও সুইস ফ্রাঁর চাহিদা তুঙ্গে উঠেছে, যদিও আশ্চর্যের বিষয় হলো বিটকয়েনকে এখন আর নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে দেখা হচ্ছে না এবং গত দুই মাসে এর মূল্য প্রায় ২৫ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যের নিজস্ব বাজারগুলোতেও ধস নামার আশঙ্কা করা হচ্ছে, যেখানে সৌদি আরব ও দুবাইয়ের শেয়ারবাজার ইতোমধ্যে নিম্নমুখী প্রবণতা দেখাচ্ছে এবং পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে সূচক ৩-৫ শতাংশ পর্যন্ত পড়ে যেতে পারে।
এছাড়া মধ্যপ্রাচ্যের আকাশসীমা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এয়ারলাইন খাতের আয় যখন তলানিতে ঠেকছে, তখন যুদ্ধের ডামাডোলে ইউরোপীয় অস্ত্র নির্মাতা ও প্রতিরক্ষা খাতের শেয়ারের দাম হু হু করে বাড়ছে। সামগ্রিকভাবে, ট্রাম্পের এই সামরিক পদক্ষেপ কেবল মধ্যপ্রাচ্যের মানচিত্রই নয়, বরং বিশ্ব অর্থনীতির স্থিতিশীলতাকেও এক চরম অগ্নিপরীক্ষার সম্মুখীন করেছে।
Shamiur Rahman

Please share your comment: